Beta

মেলা

ওড়াকান্দির মেলা

০৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০২ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১২:১০

মহসিন হোসেইন

দুইশ বছর আগে মাতুয়া ধর্মের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুর বাংলা সনের ২৯ ফাল্গুন মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি বুধবার গোপালগঞ্জ জেলার সফলাডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি ওড়াকান্দিতে তাঁর সাধনক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এরই মধ্যে মাতুয়া ধর্ম সম্প্রদায়ের কাছে ওড়াকান্দি গ্রামটি একটি পুণ্যভূমি হিসেবে গড়ে ওঠে। ক্রমেই জায়গাটি শ্রীধাম নামে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পরিণত হয় এক তীর্থস্থান হিসেবে। ভক্তরা শ্রীহরিচাঁদের জন্মতিথিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ওড়াকান্দির শ্রীধামে মিলিত হন। সেই থেকে প্রতিবছর ২৯ ফাল্গুন  মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে একটি মেলা জমে।

এই মেলার নাম ওড়াকান্দি মেলা। গ্রামের নাম থেকেই এই মেলার নামকরণ। এটি বারুণী মেলা নামেও পরিচিত। বারুণী উপলক্ষে যেসব স্থানে মেলার আয়োজন হয়, তার মধ্যে ওড়াকান্দির মেলা অন্যতম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী এ মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলায় হাজার হাজার মাতুয়া ভক্তের সমাবেশ ঘটে। মাতুয়ারা শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির দুটি পুকুরে পুণ্যস্নান এবং হরিমন্দিরে পূজা-অর্চনা করেন। এ উৎসবকে ঘিরে ঠাকুরবাড়ির এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে শতাধিক মেলার স্টল। মেলার একদিকে যেমন রয়েছে ধর্মীয় আবহ, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুও এটি। বাঁশ, বেত, মৃৎ, ব্রোঞ্জসহ নানা কুটিরশিল্প উৎপাদিত দ্রব্যের সমারোহ ঘটে এ মেলায়। এ ছাড়া রয়েছে বাদ্যযন্ত্র ডঙ্গ, শিংগা, হারমোনিয়াম, খোল, প্রেমজুড়ি, একতারা। মেলার একপাশে বসে খাবারের দোকান, অন্যদিকে বসে মাছের বাজার। বাহারি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় এখানে।

Advertisement