Beta

৩০ বছর পর ধারাবাহিক উপন্যাস লিখছি : সমরেশ মজুমদার

০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:০১

‘বাতিঘরে’ দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক সমরেশ মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত

‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গতকাল  শনিবার  ঢাকার বইঘর ‘বাতিঘরে’ উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাতিঘরে ছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই লেখক। এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং বাতিঘরের পরিচালক দীপঙ্কর দাশ।

সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর অসংখ্য পাঠক বাতিঘরে আসেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় লেখক রচিত গানের সুরে। বক্তব্যের শুরুতে নিজের অসুস্থতার কথা পাঠককে জানান এই লেখক। এরপর  বাতিঘর তাঁর  কাছে ভাষার মন্দির হিসেবে উল্লেখ করেন। এখানে এসে তিনি আরেকটি জীবন লাভ করেছেন বলে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং  তাঁর লেখা নতুন উপন্যাসের খবর দেন। সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘৩০ বছর পর আমি কলকাতার দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক উপন্যাস লিখছি। ’

থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমরেশ মজুমদার। কখনো ভাবেননি তিনি লেখালেখি করবেন। এ বিষয়ে স্মৃতিচারণা করে সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘আমি কোনো সময় ভাবিনি লেখালেখি করব। রবীন্দ্রনাথের গল্প পাঠ্যপুস্তকে যা আছে এর বাইরে কিছুই পড়তাম না। একদিন আমার এক স্যার  আমাকে রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ পড়তে দেন। আমিও প্রথমবারের মতো এই উপন্যাস পড়ি।”

নিজের প্রথম গল্প পত্রিকায় প্রকাশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সমরেশ মজুমদার বলেন, “গল্প ও উপন্যাস লেখার কথা কখনো ভাবতাম না। আমার ধ্যান-ধারণা ছিল শুধু নাটক করা।  একবার ঘটনাক্রমে গল্প লিখলাম। দেশ পত্রিকায় গল্পটা পাঠালাম। পত্রিকা অফিস থেকে আমাকে বলা হলো, ‘সাত দিন পর আবার আসবেন।’ আমিও গেলাম। এরপর বললেন,‘ পরের দিন আসুন।’ আমি যাওয়ার পর বললেন, ‘দুই সপ্তাহ পর  আপনার গল্প ছাপানো হবে।’ নিজের কানকে তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। দেশ পত্রিকায় আমার গল্প ছাপানো হবে,এ খবর বন্ধুদের বলতে তারা খুশি হয়। আমার ভার্সিটির পাশে কফি হাউস। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সবাই কফি ও পাকোড়া খায়। তখন এমনিতেই আমার কাছে কম টাকা থাকত। যেমন ৪ টাকা কিংবা ১০ টাকা। কম টাকার মধ্যে সবাই খেয়েছিল।

কিন্তু কিছুদিন পরে দেশ পত্রিকা থেকে একটি চিঠি এসেছিল। সেখানে লেখা ছিল, আমার গল্পটি অবমনোনীত হয়েছে। এই খবর বন্ধুদের বলতে তারা বলেছিল পত্রিকা অফিসে আবার যেতে।  প্রথম রাজি না হলেও পরে যাই। তখন  তাঁরা বলে, ‘দুঃখিত। পিয়নকে বলেছি এটা প্রেসে দিতে। সে ভুল শুনে এটা  আপনাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। সামনের সপ্তাহে গল্পটা ছাপানো হবে।’ গল্পটি  পরে ছাপাও  হয়েছিল। এর নাম  ছিল ‘অন্তর আত্মা’। এভাবে ধীরে ধীরে আমার লেখার জগতে প্রবেশ হয়। ‘অন্তর আত্মা’র পর প্রায় ছয় মাস আমার দ্বিতীয় গল্প ছাপানো হয়। এজন্য সম্মানী ২৫ টাকা পেয়েছিলাম। বছরে চারটি গল্প লিখতাম তখন। ”

লেখক হওয়ার পেছনে পাঠকদের হাত  রয়েছে বলেও জানান গুণী এই ঔপন্যাসিক। তিনি জানান, ‘উত্তরাধিকার’ লেখে কিছু পাঠকের সমালোচনা শুনে তিনি এর পরের খণ্ডগুলো লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পাঠকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে  সমরেশ মজুমদার তাঁর সৃষ্ট চরিত্র, সেই সব চরিত্র সৃষ্টির পিছনের কাহিনী ও গল্পের পরিণতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ‘দীপাবলী’ তার পাশের বাড়ির মেয়ের মাঝ থেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন বলে তিনি জানান। মূলত নিজের লেখার কাহিনী পাশ্ববর্তী পরিবেশ ও মানুষ হয়ে উঠে এসেছে তাঁর কলমে,গল্পের কাহিনীতে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র পাঠকদের স্পর্শ করে, প্রভাবিত করে এটাই তার বড় প্রাপ্তি। পরবর্তী প্রজন্ম ভালো পাঠক হবে এই আশা নিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

অন্যদিকে, বাতিঘরের পরিচালক দীপঙ্কর দাশ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রায় লেখকদের নিয়ে আয়োজন করি। এখন পর্যন্ত বাতিঘরে সৈয়দ শামসুল হক, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ অনেক লেখক এসেছেন। চট্টগ্রামের বাতিঘরে সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। বছর খানেক আগে তিনি সেখানে এসেছিলেন। সমরেশ মজুমদার বাংলাদেশকে অনেক পছন্দ করেন। আগে বছরে দুই একবার বাংলাদেশে আসতেন। এবারও তিনি আপনাদের ভালোবাসার টানে এখানে এসেছেন।’

ভবিষ্যতে  এ ধরনের  অনুষ্ঠান আরো করতে চান বলে জানান দীপঙ্কর দাশ। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আরো করতে চাই। সবাই সহযোগিতা করবেন।’

আগামী ৭ ডিসেম্বর বাতিঘর চট্টগ্রাম শাখায় সমরেশ মজুমদার উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান দীপঙ্কর দাশ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement