Beta

ঝিনাইদহে কিশোরের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুর

০৮ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৪২

ঝিনাইদহে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে আজ রোববার সকালে আলী হাসান (ইনসেটে) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্বজনরা। ছবি : এনটিভি

ঝিনাইদহের বেসরকারি হাসপাতাল ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় আলী হাসান (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে স্বজনরা।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলী হাসানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে এসে ভাঙচুর করে। 

এ ব্যাপারে আলী হাসানের চাচা আজগর আলী জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাঁর ভাতিজা হাসানের অ্যাপেনডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোজাম্মেল হক এ অস্ত্রোপচার করেন। সেখানে অবেদনবিদ হিসেবে ছিলেন মাগুরা জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে (পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ) কর্মরত ডা. প্রবীর কুমার। 

আজগর আলী জানান, গতকাল শনিবার রাতে আলী হাসানের অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় তাঁরা চিকিৎসককে ফোন করলেও চিকিৎসক আসেননি। তিনি বলেন, ‘নার্সরা যে থাকেন, তাঁরা আমার ভাতিজার নাকে নল পরিয়েছেন। সকালে আমার ভাতিজা মারা যায়।’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। 

ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে আলী হাসানের অ্যাপেনডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। শনিবার রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আজ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আলী হাসান মারা যায়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে। পরে  পুলিশ এলে তাঁরা লাশ নিয়ে চলে যায়।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, অস্ত্রোপচারের কারণে নয়, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আলী হাসানের মৃত্যু হয়েছে।

একই কথা বলেন, হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পরে ভালো থাকলেও পরে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু হয়। 

এর আগেও অস্ত্রোপচারের পরে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে প্রসূতিসহ একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনায় কয়েক দফা হাসপাতালে হামলাও হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে অবেদনবিদ প্রবীর কুমারের বিরুদ্ধেও। তিনি জেলার কালীগঞ্জে থেকে মাগুরাতে নামমাত্র অফিস করেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তবে ঝিনাইদহ শহরে নিয়মিত থাকেন তিনি ।

খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয় বলে জানান ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ । 

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement