Beta

সেই মন্তব্যের বাস্তবতা আরো স্পষ্ট : টিআইবি

১৭ মে ২০১৮, ১৬:৫৪

নিজস্ব সংবাদদাতা
টিআইবির সংবাদ সম্মেলন। ছবি : এনটিভি

বিরোধী দল হিসেবে নিজস্বতা না থাকায় বর্তমান সংসদের শুরুর দিকে সংসদকে ‘পুতুলনাচের নাট্যশালা’ বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কয়েক বছর পরে এসে সংস্থাটি মনে করছে, তাদের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের বাস্তবতা এখন আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

২০১৭ সালের সংসদ অধিবেশন নিয়ে টিআইবির গবেষণা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অভিমত তুলে ধরেন দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উত্থাপন না করাকে সন্দেহজনক হিসেবেও চিহ্নিত করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে বিশ্লেষণটা করেছিলাম, সেই জায়গায় আমাদের বিশ্লেষণ এখনো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত আছে। আমরা মূল যে কথাটি বলেছি, সেটা এখনো বলছি। সেটা হচ্ছে, বিরোধীদল হিসেবে যাঁরা নিজেদের দাবি করছে বা যাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা উত্থাপন করা হচ্ছে, তাঁরা শুরু থেকেই একটি আত্মপরিচয় সংকটে ভুগছেন এবং এখন পর্যন্ত। পরিবর্তন যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে এই পর্যায়ে আমরা দেখেছি তাঁদের নিজেদের কণ্ঠে তার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা যে কথাগুলো বলেছিলাম একদম একই কথা তাঁদের মুখ থেকে আমরা শুনেছি। অর্থাৎ আমাদের বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে।’

টিআইবি তাঁদের গবেষণায় যে বিষয়টিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তা হলো গত বছর যে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো হয়েছে তা সংসদে উত্থাপন না করার প্রবণতা। সেইসঙ্গে আইন পাসের ক্ষেত্রেরও রয়েছে এক ধরনের তড়িঘড়ি করার প্রবণতা।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে মাত্র ৩৫ মিনিটে একেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সম্মতি আছে কি নাই, আমাদের সেখানে কতখানি ভালো হবে কি মন্দ হবে, কতখানি সেটা দেশের ভালোর জন্য করা হচ্ছে, কতখানি অন্য কোনো কারণে করা হচ্ছে, কোনো কিছুই আমাদের জানানো হচ্ছে না।’

আর গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নিয়োগের কোনো সরকারি প্রমাণ না পেলেও তিনি যে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তার প্রমাণ খুঁজে পান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চুক্তির বিষয়বস্তু এবং সেটা নিয়ে আলোচনা করার এখতিয়ার সবার আগে কিন্তু জনগণের। জনগণের পক্ষ হয়েই কিন্তু আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। কাজেই এই জায়গাটায় যে ঘাটতি হচ্ছে, সেটাই আমাদের চিহ্নিত করার ইচ্ছা ছিল। বেশ কিছু চুক্তি এ সময় গত বছরে স্বাক্ষরিত, যেটা আপনারাও প্রতিবেদন করেছেন। কাজেই এই বিষয় বেশ উপকৃত হয়েছে এবং আমি জানি না প্রকাশিত যে হচ্ছে না, যেহেতু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না, সেটি উদ্দেশ্যমূলক কি না সেটাও দেখার বিষয় আছে।’

সংসদ অধিবেশনের মোট সময়ের ৫ শতাংশ আক্রমণাত্মক, কটু এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহারে ব্যয় হলেও এ ক্ষেত্রে স্পিকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকারও সমালোচনা করে টিআইবি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার আগের সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেয়নি। চলমান সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারপারসন রওশন এরশাদ।

এরপর ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর টিআইবি বর্তমান সংসদ সম্পর্কে ‘পুতুলনাচের নাট্যশালা’ হিসেবে মন্তব্য করে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement