Beta

চুয়াডাঙ্গায় ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

১৩ জুন ২০১৮, ১৭:১৬

চুয়াডাঙ্গায় ঈদে দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছবি : এনটিভি

চুয়াডাঙ্গায় ঈদুল ফিতরে দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফের চাল বিতরণে  অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কেউ তা পাচ্ছে না।

জেলার চারটি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৭৬ হাজার ২৪৫টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চালের পরিমাণ ৭৬২ দশমিক ৪৩ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য দুই কোটি ৮৯ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ টাকা।

আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারিভাবে কার্ডধারীদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো পৌর এলাকা বা ইউনিয়নে দেওয়া হচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় মোট চার হাজার ৬২১টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের আড়াই কেজি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে উপকারভোগীরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানতে চাইলে পৌরসভার প্যানেল মেয়র একরামুল হক বলেন, ‘দুস্থ মানুষের তুলনায় কার্ড কম আসায় আমরা স্থানীয়ভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দ চাল দুই থেকে তিনজনকে ভাগ করে নিতে বলছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল সরবরাহ নেওয়ার সময় প্রতি চালানে ২০ কেজি করে কেটে নেওয়া হয়। গুদামের শ্রমিকরা জোর করেই এসব করে থাকে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুল আলম বলেন, শ্রমিকরা চাল ওঠানো নামানোর জন্য একটি মজুরি পেয়ে থাকেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা মজুরি না দিয়ে সমপরিমাণ মূল্যের চাল দিয়ে থাকেন।

এদিকে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়নে কার্ডধারীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ২০ ভাগ, ইউপি সদস্য ৪০ ভাগ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ৪০ ভাগ হিসেবে বণ্টন করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা বলেন, এই উপজেলায় এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিতরণ চলছে।

দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আাজিজুর রহমান এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

দামুড়হুদার হাউলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ মিন্টু জানান, এ ধরনের ভাগাভাগি এবারই নয়, প্রতি বছরই হয়।

সদর উপজেলার তিতুদহ ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশ মেম্বার ও ৫০ শতাংশ ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতারা ভাগ করে নিয়েছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে কালিদাসপুরে নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ সঠিক নয়।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement