Beta

বাংলামোটরে শিশুর লাশ উদ্ধার, বাবা আটক

০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:২৭ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:২১

নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজধানীর বাংলামোটরের একটি ভবন থেকে আজ বুধবার এই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ওই ভবন থেকে তাঁর সন্তানের লাশও উদ্ধার করা হয়। ছবি : ফোকাস বাংলা

রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের একটি বাড়ি থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়। 

আজ বুধবার সকাল থেকে বাংলামোটর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের সাব-অফিসের পাশের একটি ভবন ঘিরে রাখে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টার পর নুরুজ্জামান কাজল নামের ওই ব্যক্তিকে বের করে আনা হয়। পরে তাঁকে ও তাঁর সন্তানের লাশ শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন। 

যে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তার নাম নূর সাফায়েত। তার বয়স তিন বছরের মতো। কাজলের বড় সন্তানের নাম সুবায়েত। তারা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। কাজলের বাবার নাম মনু বেপারী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এহসানুল ফেরদৌস বলেন, দফায় দফায় বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে মসজিদে মাইকিং করি। ঘোষণা দেই সাফায়েত মারা গেছে, বাদজোহর তার নামাজে জানাজা হবে। এরপর কাজলের সঙ্গে মসজিদের হুজুরদের দিয়ে কথা বলানো হয়। তাঁকে বলা হয়, সাফায়েতের জানাজা পড়াব, সবাই মিলে মাটি দেব। আপনি বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে জীবিত শিশুটিকে (সুরায়েত) নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। তখন মৃত সাফায়েতের মরদেহ নিয়ে বেরিয়ে আসেন আরেক হুজুর। নিচে এলে আমরা কাজলকে ধরে ফেলি।

‘শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। তবে মরদেহের ময়নাতদন্ত হলে বোঝা যাবে মৃত্যুর আসল ঘটনা’, যোগ করেন এসি এহসানুল।

শিশু সাফায়াত ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান। তখন সাফায়েতের মা প্রিয়া ও চাচা নুরুল হুদা উজ্জ্বল সেই গাড়িতে ছিলেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে র‍্যাবের কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ‘আমি ভেতরে ঢুকে দেখেছি, নুরুজ্জামান কাজল তাঁর ছোট শিশুকে কাফনের কাপড় পরিয়ে টি-টেবিলের ওপর রেখেছেন। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় রামদা নিয়ে বসে আছেন।’

এসআই আরো দাবি করেন, ‘কাজলকে দেখে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক। তিনি ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। কোনো সহযোগিতা লাগবে কি না জানতে চাইলে কাজল বলেন, আমি ১টার দিকে বের হয়ে আমার সন্তানকে আজিমপুরে দাফন করব। কারো কোনো সহযোগিতা দরকার নেই। আপনাদের এখানে ডাকছে কে?’

১৬ লিংক রোড বাংলামোটরের ওই ভবনের নিচে সকাল থেকেই অনেক মানুষ জড়ো হন। সেখানে আসে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গাড়িও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটি ঘিরে রাখেন।

ওই ভবনের মালিক নুরুজ্জামান কাজলকে নিয়ে স্থানীয়রা নানা কথা বলছিলেন। পুলিশ কাউকে ওই ভবনে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না। ভবনটি দোতলা ও নিচতলায় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সাফায়েতের ফুফু রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার বাবা মনু মেম্বারের ১৪ সন্তান। বাবা সবার প্রাপ্য সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে গেছেন। ভাগ অনুযায়ী, ভাই এখানেই (বাংলামেটর) থাকতেন। তিনি পাগলামি করতেন, পাগলামি করে গত তিন মাস আগে বাসা থেকে সবাইকে বের করে দেন। সেজন্য তাঁর স্ত্রীও অন্য জায়গায় থাকতেন।’

রোকেয়া আরো বলেন, ‘কাজল সন্তানদের খুবই আদর করতেন। পাগলামির কারণে তিন মাস আগে পরিবারই ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল, সে কারণে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে আবার স্ত্রীই তাঁকে জামিন দিয়ে বের করে আনেন। আজ সকালে উজ্জ্বলকে ফোন দিয়ে কাজল জানান, সাফায়েত মারা গেছে। কিন্তু সবাই ছুটে এলে কাজল দা হাতে নিয়ে তাড়িয়ে দেন।’

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement