Beta

ড. খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ

ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়

৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫৭

নিজস্ব সংবাদদাতা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছিল ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ভোট হবে। তার মানে হচ্ছে, সেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে, তাদের প্রতিনিধিরা সংসদে বসবে এবং তারা সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত হতবাক হয়ে দেখতে পেলাম, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয় নাই। ২৯ ডিসেম্বর রাতেই আওয়ামী গুণ্ডা বাহিনী ভোটবাক্স ভরে রেখেছে। মানুষের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে এ দেশের জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয় নাই। এই সরকার, নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র করে তথাকথিত এমপিদের নাম ঘোষণা করেছে এবং একটি সংসদ ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এই সংসদ অবৈধ, এই সংসদ ভোট ডাকাতির সংসদ, এই সংসদ সারা পৃথিবীতে গণতন্ত্রের জন্য একটি কলঙ্কিত সংসদ। এটি তথাকথিত সংসদ। তাই আমরা বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচন ও ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছি।’

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার প্রতিবাদে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন।

‘নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছিলাম নতুন নির্বাচনের। আজ আবারও দাবি করছি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের। যেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বিজয়ী প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘আজকে যারা নাটক করে প্রহসন করে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা অতীতেও বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে হত্য করেছিল। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতেও ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে আবার কলঙ্কিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। অতএব, আমরা এই সরকার মানি না, এই সংসদ মানি না। আমরা পুনরায় এ দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৪ সালে আমরা কেন নির্বাচনে যাইনি। এবারের ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন সঠিক ছিল। আমরা সেদিনও বলেছিলাম, আজও বলতে চাই, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, হতে পারে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশারফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, মুতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, আকরামুল হাসান, বিলকিস জাহান শিরিন প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ।

Advertisement