Beta

সাংবাদিক গৌতম হত্যা : পাঁচজনের যাবজ্জীবন, চারজন খালাস

৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মধ্যে পাঁচজনের সাজা বহাল রেখে চারজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ বুধবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

সাজা বহাল থাকা পাঁচ আসামি হলেন—আসিফ ইমরান, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, আসাদ বিন কাদির, আবু তাহের মো. মোস্তফা ওরফে অ্যাপোল বিশ্বাস ও তামজিদ হোসেন বাবু।

খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কাজী মুরাদ, কামরুল ইসলাম আপন ও রাজীব হোসেন মনা।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন-অর-রশীদ রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। 

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলার আপিল আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ৩০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৭ জুন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন নয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আসিফ ইমরান, আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কাজী মুরাদ, কামরুল ইসলাম আপন, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রাজীব হোসেন মনা, আসাদ বিন কাদির, আবু তাহের মো. মোস্তফা ওরফে অ্যাপোল বিশ্বাস ও তামজিদ হোসেন বাবু। রায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে চারজনকে খালাস এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়।

আদালতে দুই আসামি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও আবু তাহের মো. মোস্তফা ওরফে অ্যাপোলো বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবী হেলালউদ্দিন মোল্লা, এক আসামি তানজীর হোসেন বাবুর পক্ষে আইনজীবী আওলাদ হোসেন, চার আসামি আসিফ ইমরান, আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কামরুল ইসলাম আপন ও রাজীব হাসান মনার পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ আলী মোকাররম, আসাদ বিন কাদিরের পক্ষে আইনজীবী মো. আবদুর রশীদ ও ওমর ফারুক এবং আসামি কাজী মুরাদের পক্ষে আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন-অর রশীদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় সমকালের ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান গৌতম দাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয় সন্ত্রাসীচক্র। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভোরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো অফিসে ঢুকে সাংবাদিক গৌতমকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ওই দিনই সমকালের পক্ষে বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি হাসানউজ্জামান।

মামলার একজন আসামি জাহিদ ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ফরিদপুরের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম নবী।

Advertisement