Beta

সেন্টমার্টিন দ্বীপকে আবারও নিজেদের দাবি মিয়ানমারের

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৬

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে আবারও নিজেদের বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটির সরকারি মানচিত্রে এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতিমূলক’ এ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

এ ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং কিয়াওকে আজ বৃহস্পতিবার তলব করে প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া উইং) এম দেলোয়ার হোসেন বিকালে তাঁর দপ্তরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ চিঠি দেন।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যাবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয় তাতে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়। ওই মানচিত্রে মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অন্তর্গত সেন্টমার্টিনকে একই রঙে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূ-ভাগ চিহ্নিত করা হয় অন্য রঙে।

গত ৬ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. খুরশেদ আলম তার দপ্তরে মিয়ানমারের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও–কে তলব করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

ওই দিন মিয়ানমার দূত লুইন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে তাদের ভূখণ্ড দাবি করা ‘ভুল’ ছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ১৯৩৭ সালের পর থেকে ইতিহাসে তাকালে যে কেউ দেখতে পাবেন যে দ্বীপটি কখনো মিয়ানমারের অংশ ছিল না। মিয়ানমার যখন ১৯৩৭ সালে আলাদা হয়ে যায় তখন দ্বীপটি ছিল ব্রিটিশ-ভারতের অংশ। যার মানে হচ্ছে এটি ছিল ভারতের অংশ। দুই অংশের মাঝে পরিষ্কার রেখা টানা ছিল।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে এটি ছিল পাকিস্তানের অংশ এবং মুক্তিযুদ্ধের পর দ্বীপটি স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ হয়। এছাড়া ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তিতেও পরিষ্কার বলা আছে যে দ্বীপটি বাংলাদেশের অংশ।

‘এমনকি বাংলাদেশ ২০১২ সালের মার্চে যখন ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি’র (আইটিএলএস) মাধ্যমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা বিরোধে জয়লাভ করে তখনও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয় যে দ্বীপটি বাংলাদেশের অংশ,’ বলেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, ‘এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কীভাবে তারা (মিয়ানমার) সেন্ট মার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে? এটা ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ।’

Advertisement