Beta

যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:২৩

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নির্যাতনের শিকার নারী আদালত প্রাঙ্গণে। ছবি : এনটিভি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় তিন নারীকে যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার বিকেলে উপজেলার কলাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর পরের দিন রোববার মানবাধিকার কমিশনের চাপের মুখে মামলা নেয় পুলিশ।

সোমবার মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার তিন নারীর করা মামলার প্রধান আসামি ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এ ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর বলেন, একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। তদন্তের কাজটি থানা তার নিজস্ব পদ্ধতিতে করবে। ভুক্তভোগী তিন নারীর নিরাপত্তা বিধান করতেও থানার ওসির প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই পরিচালক। 

নির্যাতনের শিকার এক নারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুদের টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালিয়ে আসছেন। কয়েক মাস আগে স্থানীয় বাসিন্দা জীবন উম্মে হানীকে তিনি দুই দফায় এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা ধার দেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেলে লোকজন নিয়ে জীবন তাঁদের বাড়িতে এসে দুই আত্মীয় ও তাঁকে যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মারধর করেন এবং তাঁদের চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার দিন তাঁরা থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে জানান ওই নারী।

বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে আসে। তারা নির্যাতিতা তিন নারীর জবানবন্দি নেয় এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চায়। মঙ্গলবারই তারা কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সুপারিশ করবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ জানান, নির্যাতিতা নারীদের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement