Beta

নেত্রকোনায় নকল প্রসাধনীর মালামাল, রাসায়নিক জব্দ

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮

গতকাল বুধবার নেত্রকোনা শহরের জেড অ্যান্ড এম কসমেটিকস কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ ও নকল কসমেটিকস তৈরির বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। ছবি : এনটিভি

নেত্রকোনা পৌর শহরে একটি কসমেটিকস কারখানায় বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ ও নকল প্রসাধনী তৈরির বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ওই কারখানায় কর্মরত চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের পাটপট্টি এলাকায় জেড অ্যান্ড এম কসমেটিকস কারখানায় এ অভিযান চালানো হয়।

এ সময় শহরের নাগড়া এলাকার মোহাম্মদ নুরুর রহমান খান যাহেদীর মালিকানাধীন ওই কারখানা থেকে বিভিন্ন কসমেটিকস তৈরির সরঞ্জামসহ বড় ড্রামভর্তি বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয় ওই কারখানায় কর্মরত চার ব্যক্তিকে। এ ছাড়া কারখানার পাঁচটি কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানাটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল। এখানে পেট্রোলিয়াম জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ যেগুলো মজুদ রয়েছে, তা থেকে যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে।’

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোডাউনটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য পেয়েছি। দেশি-বিদেশি ৬০টি ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট নকল করে বাজারজাত করছিল জেড অ্যান্ড এম নামের প্রতিষ্ঠানটি।’ নেত্রকোনাসহ সারা দেশে প্রতারণার মাধ্যমে নকল দ্রব্য তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন তাঁরা। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। জব্দ করা দ্রব্যের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে বলেও জানান আতিকুল ইসলাম।

কারখানাটিতে উল্লেখযোগ্য নকল পণ্যের মধ্যে রয়েছে উইন কাশ্মীরি নামে সাতটি ব্র্যান্ডের মেহেদি, ১৫টি ব্র্যান্ডের হেয়ার অয়েল জেল অ্যান্ড কালার, ছয়টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিম, দুটি ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ, ১২টি ব্র্যান্ডের পারফিউম, আটটি ব্র্যান্ডের অলিভ অয়েল এবং ১০টি ব্র্যান্ডের আতর।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, ঢাকার চুড়িহাট্টার মতো এখানেও বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে। কারখানাটি আবাসিক এলাকায় অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরেও রাখা হয়েছিল মারাত্মক রাসায়নিক পদার্থ। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। নকল সামগ্রীসহ গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে।

Advertisement