Beta

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের ওপর দুই দফায় হামলা

১৩ মে ২০১৯, ২৩:১৫

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
সোমবার সন্ধ্যার পর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় পদপ্রাপ্তরা। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি : স্টার মেইল

ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিত অংশের নেতাদের ওপর দুই দফায় হামলা চালিয়েছে পদপ্রাপ্ত অংশের নেতাকর্মীরা।

সম্মেলনের এক বছর পর আজ সোমবার ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। কমিটিকে অবৈধ দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এবং পরে মধুর ক্যান্টিনে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে দুইবার হামলার শিকার হন পদবঞ্চিতরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করার আগেই তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। এদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী।

এ অংশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনের সামনে যায়। নতুন কমিটির সহসভাপতি সাদিক খানের নেতৃত্বে পদপ্রাপ্তরা বিক্ষোভে তাঁদের ওপর হামলা করে বলে তাঁদের অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ছাত্রলীগের গঠিত ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। যারা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে কোনোদিন থাকেনি তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এ সময় নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পাওয়া কয়েকজন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে এ নিয়ে পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে দ্বিতীয় দফায় তাদের ওপর হামলা চালায় পদপ্রাপ্ত অংশের নেতাকর্মীরা।

এদিন মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেয় পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা। বঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন শুরুর সময় পদ পাওয়া নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। এতে সংবাদ সম্মেলন বাধাগ্রস্ত হয়। এ সময় পদপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে শিবির বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটা শুনে জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এই কথার প্রতিবাদ জানায়।

সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিড়ে ফেললে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা একে অপরের প্রতি চেয়ার ছুঁড়ে মারতে থাকে। এতে পদবঞ্চিত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর ভূঁইয়া শাকিল, ডাকসুর সদস্য ও কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক এবং রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার আহত হন।

এ সময় চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে আরিফুজ্জামান আল ইমরান বলেন, ‘আমি হামলায় অংশ নেইনি। তবে আমি মধুর ক্যান্টিনে ছিলাম। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে হল কমিটির পদপ্রত্যাশী অতি উৎসাহী জুনিয়ররা হাতাহাতি করেছে। আমরা যারা সিনিয়র ছিলাম তারা গিয়ে থামিয়েছি।’

বিকেলে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপসম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদন খান, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার, কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু তন্বী, সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা প্রমুখ।

Advertisement