তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, সিলেটের ২৩ ট্রাভেল এজেন্টকে সিলগালা

১৫ মে ২০১৯, ২১:৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ছবি : এনটিভি

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত সিলেটের ২৩টি ট্রাভেল এজেন্টকে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ ৩৯ জনের মধ্যে ১৪ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যারা নিখোঁজ রয়েছেন তারা সবাই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

৯ মে দুটি নৌকায় করে ১৩০ জনের মতো বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে রওনা দেন। প্রথম নৌকাটি ইতালিতে পৌঁছালেও অন্য নৌকাটিতে ৭০-৮০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। সেই নৌকাটি মূলত  ডুবে যায়। সেখানে আহত ১৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতরা হলেন সুনামগঞ্জের রনি মিয়া, মাদারীপুরের মাসুদ, সাইদ সরদার ও রনি মোল্লা, নোয়াখালীর মাহামুদুর হাসান ও মনজুর আলম, নারায়ণগঞ্জের ইব্রাহীম মিয়া, সিলেটের সিজুর আহমেদ, বিলাল আহমেদ ও মাহফুজ আহমেদ, কিশোরগঞ্জের বাহাদুর, হবিগঞ্জের মামুন মিয়া, শরীয়তপুরের শিশির এবং বরিশালের আল আমিন।

তারা তিউনিসিয়ার জার্জিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ১০ জনকে তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সবাইকে জোরজবরদস্তি করে পিঠে হাত দিয়ে নৌকায় ওঠানো হয়। নৌকায় ওঠার ১০ মিনিট পরে নৌকাটি ডুবে। উদ্ধারকৃত যে কয়জন তাদের মধ্যে একজন মৃত এসেছে। তার নাম আমরা পেয়েছি। আর ১৪ জনের মধ্যে দুজনের শরীর আগুনে পুড়ে গেছে।

ড. আবদুল মোমেন বলেন, ‘নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র এবং সিলেটের ফ্রড ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটা চক্র লোক পাঠায়। তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও লিবিয়ার ত্রিপোলির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ভালো। সিলেটের প্রতারক ট্রাভেল এজেন্টের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। প্রতারক এজেন্টগুলো মানুষ পাচারে ব্যস্ত থাকে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ২৩টি ট্রাভেল এজেন্টকে সিলগালা করে দিয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা চার থেকে ছয় মাস আগে দুবাই হয়ে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। তাদের নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।

এদিকে যারা আহত হয়েছেন তারা দেশে ফিরতে চাইলে তাদের নিয়ে আসা হবে এবং যেসব বাংলাদেশি নৌকাডুবির ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের লাশ স্বজনরা চাইলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।