Beta

শত বছর পর কয়েদিদের সকালের নাশতায় পরিবর্তন

১৬ জুন ২০১৯, ১৪:২৮ | আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ১৪:৪৯

কয়েদিদের সকালের নাশতায় এলো পরিবর্তন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নতুন মেন্যুর উদ্বোধন করেন। ওই সময় তাঁর সামনে নতুন ও পুরোনো মেন্যু দেখানো হয়। ছবি : এনটিভি

একটি রুটি ও এক টুকরো গুড়ই ছিল কয়েদিদের সকালের নাশতা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল এভাবেই। তবে শেষ পর্যন্ত এত বছরের নিয়ম শেষে কয়েদিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মুখরোচক খাবার। গুড় আর রুটির পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে রুটি, হালুয়া, সবজি ও খিচুড়ি।

আজ রোববার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে এই খাবার মেন্যুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

কারাসূত্র জানায়, এর আগে কারাবন্দিদের জন্য ১৪ দশমিক ৫৮ গ্রাম গুড় ও ১১৬ দশমিক ৬ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি) ছিল সকালের নাশতার মেন্যু। একই পরিমাণ গুড়ের সঙ্গে একজন হাজতি পেতেন ৮৭ দশমিক ৬৮ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি)।

কারাগারে সকালের নাশতায় নতুন খাবার মেন্যুর উদ্বোধন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন এই খাবার মেন্যু আজ থেকে দেশের সব কারাগারে চালু করা হলো। সারা দেশের কারাগারগুলোতে এই খাবারের মধ্যে সপ্তাহে দুদিন খিচুড়ি, একদিন হালুয়া ও রুটি এবং চার দিন সবজি ও রুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, কারা মহাপরির্দশক মোস্তফা কামাল পাশা, ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ ফেরদৌসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে তাঁকে কারারক্ষীরা গার্ড অব অনার দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘কারাবন্দীদের মানসিক প্রশান্তি দিতে চালু হয়েছে প্রিজন লিংক স্বজন সার্ভিস। এতে করে কারাবন্দীরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।’ বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কারাবন্দীরা কারাগারে থেকে মানসিক প্রশান্তি এলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ সার্ভিস চালু করা হবে।’

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কারাগারে কারাবন্দীদের চাহিদা অনুযায়ী ৩৮টি ইভেন্টে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফলে কারাবন্দীরা মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে না জড়িয়ে সংশোধনের সুযোগ পাবে।’

Advertisement