Beta

সাংবাদিক ফাগুনের বাবার অভিযোগ

ঘুষ না নেওয়ায় হুমকি, পরে হত্যা

২৯ জুন ২০১৯, ২১:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফাগুন রেজার বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা। ছবি : এনটিভি

একটি ডেভেলপার কোম্পানির অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনকে ঘুষ দিতে চেয়েছিল ওই প্রতিষ্ঠান। ঘুষ না নেওয়ায় পরে তারা হুমকি দেয়। সে কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে মনে করেন ফাগুনের বাবা কাকন রেজা।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে ফাগুনের হত্যারহস্য উন্মোচনের দাবিতে মানববন্ধনের পর কাকন রেজা এনটিভি অনলাইনকে এসব কথা বলেন।

গত ২১ মে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ও সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন (ফাগুন রেজা)। শেরপুর জেলা শহরের তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা মাঠে ফাগুন রেজার জানাজা  শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফাগুন রেজা এনটিভির শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও কলাম লেখক কাকন রেজার বড় ছেলে।

কাকন রেজা এনটিভি অনলাইনকে বলেন,‘রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে মারা যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলে। সে সময় প্রথম আলোসহ অন্য সব গণমাধ্যম নিউজ করলো,ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়ে ছেলেটি মারা গেছে। কিন্তু সেই ঘটনা সত্য নয়।’

তিনি বলেন,‘এরপর ঘটনাটির অনুসন্ধানে নামে আমার ছেলে। অনুসন্ধানে নেমে সে দেখল, ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়ে নয় ওই ডেভেলপার কোম্পানিটির খামখেয়ালিতে  নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে একটি রড নিচে পড়ে ছেলেটির শরীরে পড়ে। এতে সে গুরতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে। ওই এলাকার স্থানীয়রা আমার ছেলেকে জানিয়েছিল, এখানে গত ১০ বছরের ভেতরে কোনো ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়নি।’

কাকন রেজা  আরো বলেন, ‘এই নিউজ প্রকাশ করার পর ওই কোম্পানি থেকে আমার ছেলেকে একটি আইফোন-এক্স এবং বিদেশ ট্যুর প্যাকেজ দিতে চেয়েছিল। যাতে করে নিউজটি উঠিয়ে নেওয়া হয়। তখন আমার ছেলে মুখের উপর তাদেরকে না করে দেয়। এরপর তারা আমার ছেলেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরপর  ওই ডেভেলপার কোম্পানি থেকে প্রিয় ডটকমের অফিসে যোগাযোগ করে। এরপর নিউজটি উঠিয়ে নেয় প্রিয় ডটকম। ব্যাপারটি না মেনে তখন আমার ছেলে অফিস থেকে বেরিয়ে যায় এবং এর প্রতিবাদ করে চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সবার অনুরোধে ছাকরি ছাড়েনি আমার ছেলে। পরে ওই কোম্পানি থেকে লোকজন এসে প্রিয় ডটকমের অফিসে গিয়ে আমার ছেলের কাছে ক্ষমাও চান।’

কিন্তু সেই খবরের ঘটনা তো ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের। এতদিন পর তারা এই খুনের ঘটনা ঘটাবে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ডটকমের চাকরি ছেড়ে দিল আমার ছেলে। এরপর জাগো নিউজে জয়েন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। শেরপুর থেকে জাগো নিউজের অফিসে গিয়েছিল আমার ছেলে। এরপর তো আর ফিরে যায়নি। প্রিয় ডটকমে থাকা অবস্থায় আমার ছেলের কোনো ক্ষতি করলে তারা ঝামেলায় পড়তে পারে। সেজন্য প্রিয় ডটকম ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হল।’

Advertisement