Beta

পাহাড় ধসে দীঘিনালায় একজনের মৃত্যু

০৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৬

খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মাসুদ আজ মঙ্গলবার তাঁর ওয়ার্ডের প্লাবিত লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যান। ছবি : এনটিভি

টানা প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের দুর্গম উল্টাছড়ি গ্রামে যুগেন্দ্র চাকমা (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সন্তোষ জীবন চাকমা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘরসহ পাহাড় ধসে পড়ার কারণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে জেলা শহরের শালবন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা ৩০টি পরিবারকে মঙ্গলবার বিকেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে শালবন টেক্সটাইল ভোকেশনাল আশ্রয় কেন্দ্রে  নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুন নাহারের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রাণহানির শঙ্কায় আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেন। রাতে বৃষ্টিপাত না হলে সকালে বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এদিকে একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুপুরের পর থেকে দ্রুত বাড়ছে চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী নদীর পানি। আকস্মিক বন্যায় চেঙ্গী নদীর পানি নদীর দুই কুল উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলা শহরের নিম্নাঞ্চলের পাঁচ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. জাফর আহম্মদ আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা শহরের গঞ্জপাড়া, মুসলিমপাড়া, বটতলী, কালাডেবা, বাঙ্গালকাটি, রাজ্যমনিপাড়া, ফুটবিল, মেহেদীবাগসহ কয়েকটি গ্রাম এরই মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের ২৪ মাইল ও চোংড়াছড়ি এলাকার রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি ও রাঙামাটি  আঞ্চলিক সড়কে যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে।

দুপুরে জেলা শহরের শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রসহ অন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদশর্ন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলা শহরে আটটিসহ পুরো জেলায় ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্যোগ থেকে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে প্রস্তুতি সভা করে কুইক রেসপন্ড টিম গঠন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

Advertisement