Beta

গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখালেন প্রধানমন্ত্রী

১১ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৭ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, ২৩:১১

ইউএনবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী বক্তব্য দেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দাম অনেক কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যারা আন্দোলন করছেন তারা আসল পরিস্থিতি বিবেচনা করেন না।

বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন, তারা আসল পরিস্থিত নিয়ে ভাবেন না বা তারা আমাদের উন্নয়ন দেখেন না।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সরকার তা মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। প্রতি ঘনফুট এলএনজি আমদানির মোট ব্যয় ৬১.১২ টাকা, কিন্তু বিপুল ভর্তুকি দিয়ে তা বিক্রি করা হয় ৯.৮০ টাকায়। ‘এলএনজি আমদানির কারণে গ্যাসের দাম কিছু পরিমাণে বাড়লেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম,’ বলেন তিনি।

গ্যাসের দাম ভারতে কমিয়ে আনা হয়েছে বলে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের দাবি খণ্ডন করে সংসদ নেতা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গ্যাসের দামের তুলনামূলক চিত্র সংসদে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনফুট ১২.৬০ টাকা, যা ভারতে ৩০-৩৭ রুপি। তিনি আরো  জানান, বাংলাদেশে শিল্পকারখানায় যেখানে প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম ১০.৭০ টাকা, সেখানে ভারতে তা ৪০-৪২ রুপি। প্রতি ঘনফুট সিএনজির দাম বাংলাদেশে ৪৩ টাকা আর ভারতে তা ৪৪ রুপি। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনফুট ২৩ টাকা এবং ভারতে সেটি ৫৮-৬৫ রুপি।

সরকার বিশাল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিয়ে মানুষকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও খুনের মতো সামাজিক অপরাধ বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগুলো কঠোর করা আবশ্যক। তিনি নারীদের প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ধর্ষকরা যাতে লজ্জিত হয় সে জন্য তাদের ছবি বারবার গণমাধ্যমে দেখানোর কথা বলেন তিনি।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বয়সসীমা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে কতগুলো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হাতে ৬-৭ বছর সময় থাকে।

শেখ হাসিনা বলেন, একজন শিক্ষার্থী ২৩ বছর বয়সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে পারেন এবং বিসিএস পরীক্ষায় ২৩-২৫ বছরের প্রার্থীদের সফলতার হার ২৫-২৭ বছরের পরীক্ষার্থীদের থেকে বেশি এবং ২৯ বছরের অধিক প্রার্থীদের থেকে অনেক বেশি।

বিদ্যমান বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে যদি ৩৫ করা হয় তাহলে বিসিএসের ফলের গেজেট প্রকাশের পর প্রশিক্ষণ শেষে একজন প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়স হবে ৩৭ বছর, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement