Beta

নেত্রকোনায় বলাৎকারের পর শিশুর মাথা ছিন্ন করেছিল রবিন : আইজিপি

২৪ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫২

নিজস্ব সংবাদদাতা
নেত্রকোনায় গত ১৮ জুলাই শিশু সজীবের মাথা ছিন্ন করে ব্যাগে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে নিহত রবিন। ছবি : এনটিভি

নেত্রকোনায় গত ১৮ জুলাই গলা কেটে হত্যার আগে শিশু সজীবকে বলাৎকার করেছিল রবিন। শুধু তাই নয়, একসময় ব্লেড নিয়ে সে তার স্ত্রীরও গলা কাটার চেষ্টা করেছিল। এ জন্য স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এই তথ্য জানিয়েছেন।

ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘সজীব নামের যে শিশুটি মারা গেছে, মৃত্যুর আগে রবিন তাকে বলাৎকার করেছিল। যার প্রমাণ পেয়েছি সুরহতাল এবং ময়নাতদন্তে।’

আইজিপি বলেন, ‘ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে আমরা বলতে পারি, বলাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটি হয়তো প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল, তাই তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অথবা যেহেতু পরিচিত পরিবার ছিল দুজনের। শিশুটি ঘটনাটি তার পরিবারকে জানিয়ে দেবে, সেই চিন্তা থেকেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।’   

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘রবিন মাদকাসক্ত ছিল। মাদকাসক্তের কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল। অপরাধী কর্মকাণ্ডের জন্য ঘটনার কিছুদিন আগে পুলিশ তাকে আটকও করেছিল। এই মাদকাসক্তের কারণেই সে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করত। শুধু তাই নয়, একসময় ব্লেড নিয়ে সে তার স্ত্রীরও গলা কাটার চেষ্টা করেছিল। এ জন্য স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।’ এই রবিনের কারণেই তার বাবা সম্পত্তিগুলো বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও জানান জাবেদ পাটোয়ারী।

এর আগে ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের কাটলী এলাকা দিয়ে রবিন হাতে ব্যাগ নিয়ে দৌড়াচ্ছিল। এলাকায় তাকে নতুন মনে করে স্থানীয় লোকজন তার নাম-পরিচয় জানতে চান। রবিন আমতা আমতা করতে থাকলে লোকজন জিজ্ঞাসা করেন, তার ব্যাগের ভেতরে কী আছে? রবিন বলে, তার ব্যাগের ভেতরে ভাঙাড়ির জিনিস আছে। তাকে সন্দেহ হলে ওই ব্যাগটি দেখতে চান স্থানীয়রা। কিন্তু সে ব্যাগটি না দেখাতে চাইলে স্থানীয়রা ব্যাগ নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কাটা মাথা ছিটকে পড়ে।

এর পরই রবিনকে ধাওয়া দেয় লোকজন। একপর্যায়ে শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্ত পুকুরপাড়ে তাকে পিটুনি দেন এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই রবিনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজীবের কাটা মাথা ও রবিনের লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। বিকেলে কাটলী এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবনের নিচতলা থেকে শিশু সজীবের বাকি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রবিন (২২) পেশায় রিকশাচালক ছিল। সে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার একলাছ উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে নিহত সজীবের পরিবারও একই এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকে। সে আরেক রিকশাচালক রইছ উদ্দিনের ছেলে। রইছের গ্রামের বাড়ি জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামে।

Advertisement