Beta

এবারও খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ ছাড়াই ঈদ করতে হচ্ছে বিএনপিকে

১১ আগস্ট ২০১৯, ২৩:২৮

নিজস্ব সংবাদদাতা
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পুরোনো ছবি : এনটিভি

বছর ঘুরে ফের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতি বছরই এই সময়গুলোতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উৎসবের ছোঁয়া লাগে। দেখা যায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। তবে গত তিনটি ঈদের মতো বিএনপির রাজনীতিতে এবারও সেই ঈদ উদযাপনের উৎসাহ নেই। কারণ দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।

দলীয় প্রধানকে কারাগারে রেখে টানা চতুর্থবার ঈদ করতে হচ্ছে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মীকে। আর এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের বৃহত্তম ও অন্যতম জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীদের মনে ঈদের খুশিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম, ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ, পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে ও তারেক রহমানের স্ত্রীর বোন শাহিনা খান ঈদের দিন বিএনপি প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন বিএসএমএমইউতে।

অপর দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় এক যুগ ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। দলের প্রধান দুই নেতার একজন কারাগারে, অন্যজন দেশের বাইরে থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ কিছুটা নিরানন্দ হয়ে উঠেছে।

এর আগের বছরগুলোতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন শুরু হতো দলীয় নেতাকর্মীদের। কিন্তু তিনি কারাগারে থাকায় গত বছরের মতো এবারও তা আর হচ্ছে না। তবে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে এবার ঈদের নামাজের পরপরই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এরপর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাবন্দি দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন।

তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ঈদের সময় নিজ নিজ এলাকায় চলে যাবেন। আবার শীর্ষ নেতাদের অনেকেই থাকবেন ঢাকায়।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান ঈদ করবেন লন্ডনে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হোসেন মাহমুদ টুকু ঢাকায় এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর চট্টগ্রামে ঈদ করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন আব্দুল্লাহ আল নোমান ঢাকায়, মোহাম্মদ শাহজাহান নোয়াখালী, শামসুজ্জামান দুদু ঢাকায়, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ময়মনসিংহে, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর ও রুহুল আলম চৌধুরী ঢাকায় ঈদ করবেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও জয়নুল আবদিন ফারুক ঢাকায়, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে এবং হাবিবুর রহমান হাবিব নিজ নির্বাচনী আসন পাবনার ঈশ্বরদীতে ঈদ করবেন।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত বছরের মতো এবারও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে, খায়রুল কবির খোকন নরসিংদীতে, মুজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশালে, হাবিবুন নবী খান সোহেল ঢাকায় ও আসলাম চৌধুরীর ঈদ কাটবে কারাগারে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঢাকায় ও শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে ঈদ করবেন। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকুও ঢাকায় ঈদ করবেন।

Advertisement