Beta

লক্ষ্মীপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:১৮ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:২১

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে আহত ফুটবলাররা। ছবি : এনটিভি

লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলার সময় সদরের দুই ইউনিয়নের সংঘর্ষে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ নেতা ও খেলোয়াড়সহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনুর্ধ্ব-১৭ এর সেমিফাইনাল খেলায় ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

খেলার শেষের দিকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ও দালালবাজার ইউনিয়নের খেলোয়াড় ও দর্শকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পোশাকধারী ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দালালবাজার দলের কোচ সুজন হোসেনসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

এ দিকে রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল আহতদের দেখতে জেলা সদর হাসপাতালে যান। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম নিশান ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি কিনান জোবায়ের শুভ শারীরিকভাবে নাজেহাল হন।

আহত অন্যরা হলেন খেলোয়াড় সাইফুল, নিশাদ, বিপ্লব, আকবর, নাইম, জুয়েল, সজিব, সাইফুল, জিহাদ, জকির হোসেন, ইউসুফ, শাকিল, ইসমাইল ও সোহাগসহ ২৭ জন।

আহতরা সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ, দালালবাজার ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনুর্ধ্ব-১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচে শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার দালালবাজার ও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন অংশ নেয়। খেলার শেষের দিকে রেফারি দালালবাজার ইউনিয়নের এক খেলোয়াড়কে লালকার্ড দেন। এ নিয়ে বিতর্ক হলে রেফারি ম্যাচ পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যান। এ সময় ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন দুই গোলে এগিয়ে থাকায় দালালবাজারের খেলোয়াড়রা তাঁদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই ইউনিয়নের দর্শকরা স্টেডিয়াম গ্যালারি থেকে লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে নেমে এসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তাদের থামাতে গিয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতারাও শারীরিকভাবে নাজেহাল হন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

জেলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় খেলার মধ্যে দুইপক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফাইনাল খেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’

Advertisement