Beta

আবরার ফাহাদ হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

অপরাধী কে, কোন দলের আমি সেটি দেখি না

০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৪১ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২২

নিজস্ব সংবাদদাতা
গণভবনে আজ বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী কে, কোন দলের—আমি সেটি দেখি না। আমার কাছে অপরাধীর পরিচয় হলো অপরাধী। এদের কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। এখানে কে ছাত্রদল, কে ছাত্রলীগ আমি সেটা বিবেচনা করিনি। আমি বিবেচনা করেছি একটা বাচ্চা ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কী নির্মমভাবে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এসব দেখে স্বাভাবিক একটা সন্দেহ থাকে, এরা কারা? কারা এটা ঘটিয়েছে?

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে রাখতে হবে কিছু মানুষ আছে এরা সব সময় সরকারি দল করে। এরা সুবিধা নেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্ররা নামার আগেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্দেশ দিয়েছি; যে অপরাধী তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করো। এই বুয়েটে তো আমাদের অনেকে হত্যার শিকার হয়েছে। এগুলোর কি বিচার হয়েছে? কই এসব ঘটনায় কেউ তো গ্রেপ্তার হয়নি। অনেক উদাহরণ আমি দিতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটুক। আমরা একটা সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছি। তার মাঝেও এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। তার পরও কেন এত আন্দোলন? কিসের স্বার্থে আন্দোলন? আমরা বিচার করব। আমিও পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি, আমি তো বিচার পাইনি। আমার ৩৮ বছর লেগেছে বাবা, মা, ভাই হত্যার বিচার পেতে।

সদ্য সমাপ্ত নিউইয়র্ক ও নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম সম্মেলনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর আট দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি নয়াদিল্লিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে অংশ নিতে ৩ অক্টোবর ভারতে চার দিনের সফরে যান।

শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে ৫ অক্টোবর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে তিনটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং তাদের উপস্থিতিতে সাতটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও প্রিয়াংকা গান্ধীসহ রোববার তাজমহল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে অবস্থানের সময় আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার ২০১৮’ গ্রহণ করেন। তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি।

শেখ হাসিনা ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরের সময় ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ এবং বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ‘ভ্যাকসিন হিরো’ শীর্ষক দুটি সম্মানজক আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবে আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোউ বেনসোউদা, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস, জাতিসংঘ মহাসচিবের উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন বিষয়ক বিশেষ দূত রানি ম্যাক্সিমা ও গ্লোবার হোপ কোয়ালিশনের অনারারি প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

Advertisement