জয়পুরহাটে বিদ্রোহী প্রার্থীকে অপহরণ, ২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীকে অপহরণের দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটকও করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বানিয়াপাড়া থেকে ওই প্রার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া প্রার্থীর নাম মনোয়ার হোসেন। তিনি কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া তিনি স্থানীয় মাত্রাই মডেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
উদ্ধার হওয়া মনোয়ার হোসেন জানান, পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ মে হতে যাওয়া নির্বাচনে তিনি যেন মাত্রাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে জন্য গতকাল দুপুরে বানিয়াপাড়া এলাকা থেকে ওই ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকেরা তাঁকে অপহরণ করে। এরপর তাঁকে মাত্রাইয়ের তালুকদারপাড়া গ্রামে আটকে রাখা হয়।
মনোয়ার জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাব খুলতে গতকাল দুপুরে কালাই উপজেলা সদরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুপুর ১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জয়পুরহাট জেলা সদরে যাওয়ার পথে বানিয়াপাড়া এলাকায় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সিএনজির গতি রোধ করে। এ সময় ১০-১২ জন লোক তাঁকে অপহরণ করে তালুকদারপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. হাসান আরাফাত জানান, অপহরণের খবর জানতে পেরে র্যাব ৫-এর একটি দল তালুকদারপাড়ায় অভিযান চালায়। সে সময় আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি থেকে অপহৃত মনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে ওই বাড়ি থেকে আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী নূরী আক্তার ডলি, শালগুন গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও কুসুমসারা গ্রামের মাহাবুবুর রহমান মাবুদকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় জয়পুরহাট র্যাব ক্যাম্পে মনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীরাই তাঁকে অপহরণ করেছিল। নির্বাচনে তিনি যেন অংশ নিতে না পারেন সে জন্য কিছু দিন ধরেই তাঁকে নানাভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকিধমকি দেখানো হচ্ছিল।