ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার বিষয়ে অবশেষে উদ্বেগ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শেষ দুই ধাপের নির্বাচনে ঘটা সহিংসতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি চিঠি দিয়েছে কমিশন।
গতকাল সোমবার এই চিঠি পাঠায় ইসি। চিঠিতে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
প্রথম চার ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা, ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা, কেন্দ্র দখল, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটার পর এই প্রথম দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।
চিঠিতে যেকোনো সহিংসতা কঠোর হাতে দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও দৃশ্যমান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইসির উপসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত ওই চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।
ইউপি নির্বাচনের চার ধাপে সারা দেশে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সহিংসতা ও হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বশর্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, যেকোনো সহিংসতা কঠোর হাতে দমন, সহিংসতাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও দৃশ্যমান করতঃ প্রার্থী, ভোটার তথা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত পালন করতঃ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় ভোটারদের নিরাপত্তা বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী সহিংসতা রোধ, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ছয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ইতোমধ্যে চার ধাপে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বাকি দুই ধাপের ভোট আগামী ২৮ মে ও ৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দিন দিন নির্বাচনী সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ঘটনাও ঘটছে।
ইতোমধ্যে কয়েকজন লোক নিহত হয়েছেন, বেশ কিছু আহত হয়েছেন। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও দাখিলে বাধা প্রদান, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় দিন দিন সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলেও বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে।’