মৃতরাও ভোট দিয়েছে, বিস্মিত হয়েছে ইসি

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মৃতরাও ভোট দিয়েছে। কোথাও কোথাও পড়েছে শতভাগ ভোটও। ভোটের এমন ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করছে স্বয়ং নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চতুর্থ ধাপের ইউপি ভোটে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। মাঠ পর্যায় থেকে ইসিতে পাঠানো ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সেখানে দেখা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরআড়ালিয়া ইউপির নয়টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দু’টিতে শতভাগ ভোট, একটিতে ৯৯ দশমিক ৯০, আরেকটি কেন্দ্রে পড়েছে ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল সিটে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আশ্চর্য ঘটনা! শতভাগ ভোট কোনোভাবেই পড়তে পারে না। কারণ সেখানে মৃত ও প্রবাসী ভোটার রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে কর্মরতরাও ব্যস্ততার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভোট দিতে যেতে পারে না।
এ ছাড়া স্কুল-কলেজের চাকরিজীবী থাকলে তাদের নির্বাচনী দায়িত্বেও থাকতে হয়েছে। তা ছাড়া অনেকে অসুস্থতার কারণেও ভোট দিতে যেতে পারে না। ফলে কোনোভাবে শতভাগ ভোট পড়ার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর প্রতিকার চেয়ে চরআড়ালিয়া ইউপির পরাজিত প্রার্থী মো. হাসানুজ্জামান গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
ফলাফল শিটের তথ্যানুযায়ী, চরআড়ালিয়া ইউপির ৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১০ হাজার ১০০। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে আট হাজার ৫৩২টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান সরকার (নৌকা) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৮টি। বিএনপির প্রার্থী মো. হাসানুজ্জামান (ধানের শীষ) প্রতীকে তিন হাজার ২৮৫টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহানশাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৯টি ভোট এবং বাতিল হয়েছে ১১০ ভোট । শতকরা ভোটের প্রদত্ত হার ৮৬ শতাংশ।
অথচ ওই ইউপি বাতাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বটতুলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। ওই দুই ভোটকেন্দ্রে ভোট রয়েছে যথাক্রমে ৮৫২ ও এক হাজার ৯০টি।
এ ছাড়া বটতুলি খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, খামারপাড়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়া ওই চারটি কেন্দ্রে তিন হাজার ৮৩৭টি ভোটের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন তিন হাজার ৭৬৮টি ভোট, বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র সাতটি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র পাঁচ ভোট এবং বাতিল হয়েছে ৩৯টি ভোট।
বটতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খামারপাড়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ছাড়া অন্যরা ভোট পায়নি। যদিও ভোট শুরুর আগেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের কাছে চারটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। ইসিতে করা আবেদনে বিএনপির প্রার্থী এ তথ্য উল্লেখ করেন।
গত ৭ মে এই ইউপিতে ভোট হয়। এরই মধ্যে চার ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ মে ও ষষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।