নৌকায় ভোট দেবেন না শুনেই পিটুনি হিন্দু নারীকে

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীকে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা বেধড়ক মারপিট করেছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারপিটে আহত গ্রামের সুকুমার রায়ের স্ত্রী কৌশল্লা রাণী রায়কে (৪৫) শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুল ইসলামকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় কৌশল্লা রানীকে পিটিয়ে আহত করেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। পরে গ্রামবাসী তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বিকেলে পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান ওসি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কৌশল্লা রানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে নৌকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজ উদ্দিন বিশ্বাসের সমর্থক মানিক ও মুক্তাসহ কয়েকজন আমার বাড়িতে ভোট চাইতে আসে। তারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য জোর করে। আমি তখন রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।’
কৌশল্লা রানী আরো বলেন, ‘এ সময় আমি তাদের কাছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) ফারুক হোসেনের আনারস প্রতীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানাই। এ কথা শুনেই তারা আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস ঘটনাটি সরাসরি অস্বীকার না করে বলেন, ‘আহত ওই নারীর চিকিৎসার জন্য আমি এক হাজার টাকা দিয়েছি।’
এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আহতের পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন বলে দাবি করেন নৌকা মার্কার এ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার এ ইউনিয়নের বাগুটিয়া বাজারে নৌকার সমর্থকরা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের দোকানপাটে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে।
আগামী ৪ জুন শেষ ধাপে শৈলকুপা উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে।