রোয়ানুতে মৃতের সংখ্যা ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে

দেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাইক্লোন রোয়ানুর আঘাতে মৃতের সংখ্যা ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ঝড়ে প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮০ কিলোমিটার, এতে জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার শেষ বিকেলে রোয়ানু উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ আজ রোববার বলেন, ‘গত রাতের প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা আরো চারজন বেড়ে মোট ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।’
ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক শিশুসহ মৃতের সংখ্যা ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস আরো জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ভোলা, উত্তর-পশ্চিম নোয়াখালী ও কক্সবাজার জেলায় ঝড়ে প্রতিটিতে তিনজন করে লোকের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে উপকূলজুড়ে ৮৫ হাজার ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা এর আগে জানান, জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানিতে ডুবে ও ভূমিধসে ঘর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে অনেকে মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে পানিতে ডুবে অথবা ব্যাপক বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ভূমিধসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে বলেন, ১৮টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে ১৪টি জেলার প্রায় পাঁচ লাখ লোককে সাইক্লোন সেন্টারে সরিয়ে আনা হয়েছে। প্রায় ২১ লাখ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
উপকূলীয় এলাকা থেকে সরকারি কর্মকর্তারা ফোনে জানান, ঝড়ের কারণে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে একাধিক স্থানে উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে অবকাঠামো ও শস্যক্ষেতের ক্ষতি সাধন করেছে। ঝড়ে প্রচুর গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ঝড়ে উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে।