Beta

নিত্যপণ্যের বাজার

নির্বাচন চলে গেছে, ‘অজুহাত’ রয়ে গেছে

১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৪ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে চাল, ডাল, মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ছবি : এনটিভি

রাজধানীতে চাল, ডাল, মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, চিনি, আদা, রসুন, মসলা, খোলা ভোজ্যতেল, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে অসন্তুষ্ট ক্রেতাসাধারণ, দোকানদার ও খুচরা ব্যবাসায়ীরা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর সিন্ডিকেট করে কিছু অসাধু আমদানিকারক ও চালের মিল মালিক এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের আগে আমন ধান আসার আগমুহূর্তেও চালের দাম ছিল স্থিতিশীল। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চালের কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ আছে বলে সে সময় জানান মিল মালিকরা। অথচ এখন আমন ধানের ভরা মৌসুমে চালের সরবরাহ কম বলে দাবি তাঁদের। এই অজুহাতে মিল মালিকরা নির্বাচনের পর সব ধরনের চালে কেজিতে চার থেকে আট টাকা দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীদের।

এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘নির্বাচনের পরের থেকে চালের বাজার অনেক বেশি। এখন আমনের সিজন, আমনের সিজনে গত বছরের চালও এ বছর আছে।  দাম বাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একমাত্র সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ানো হইছে।’

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেইনলি সিন্ডিকেটের কারণে বাড়ছে। এরা মনে করছে সরকারের হয়তো উত্থান-পতনের ফাঁকে, একটা সুযোগ ব্যবহার করা ওদের একটা টার্গেট ছিল, সেই টার্গেট তারা ফিলআপ করছে। পুরোনো ফসল মজুদ থাকার পরও নতুন একটা ফসল সাপোর্ট দিছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও ইচ্ছাকৃত চালের দামটা ওরা বাড়াইছে। এই এক মাসের মধ্যে মোটামুটি নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরে কোটি কোটি টাকা কামাই নিছে।’

অন্যদিকে আদা, রসুন, ডালসহ মুদিবাজারেও স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, বাজারে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ না এলে কঠিন হয়ে যাবে তাঁদের জীবনধারণ।

বিক্রেতারা বলছেন, আমদানীকৃত বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।

এক দোকানদার বলেন, ‘গত সপ্তাহের থেকে এই সপ্তাহে মসুরের ডাইল কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ছে। মুগ ডাইল কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ছে। রসুন কেজিতে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়ছে। আদার কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি বাড়ছে। চিনির কেজি এক থেকে দেড় টাকা করে বাড়ছে গত সপ্তাহের চেয়ে।’

আরেক দোকানদার বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সব মালই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল। কেন জানি হঠাৎ করে নির্বাচনের পর থেকে অনেকগুলি আইটেমের দাম খুব বৃদ্ধি।’

এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘প্রতিটা জিনিসেই কেজিতে মানে যাই কিনছি বাজেট হছে না। বাজেটের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে।’

আরেক নারী ক্রেতা বলেন, ‘মুরগির দামটাম এগুলা বাড়ছে হয়তো নির্বাচনের কারণে, এরা তাই বলতেছে।’

এক পুরুষ ক্রেতা জানান, ‘যৌক্তিক কারণ নাই, কারণ নির্বাচনের জন্য কোনো হরতাল হয় নাই, কোনো ব্লকেড হয় নাই। নির্বাচনের জন্য কোনো টাইপের কোনো সমস্যা আসলে আমাদের দেশে হয় নাই। কিন্তু সব জিনিসের দাম বেড়েছে এক্সকিউজ দিয়ে। এই এক্সকিউজগুলা কিন্তু এখন গভর্নমেন্টের মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছে। আমরা মনে করি, এই এক্সকিউজগুলা গভর্নমেন্টের একটু ডিফেন্ড করা উচিত।’

মুরগি কিনতে এসে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘(দাম) একটু বেশিই মনে হচ্ছে আর কী।’

মুরগি বিক্রেতা জানান, ‘গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে একটু বেশি। শীতকাল আর এমনি নির্বাচনের পড়ে মালের দাম একটু বাড়তি যাইতেছে।’

গত চার দিন ধরে মুরগির দাম বাড়ছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগিতে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।  এ ছাড়া খোলা তেলসহ আটা ও মসলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement