Beta

পোশাকশিল্পের উন্নয়নে স্বাধীনতা পরিষদের অঙ্গীকার

২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৬ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৫

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, কারখানাগুলোর সমস্যা সমাধান ও কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে আরো কার্যকর ও ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে ১৬ দফা অঙ্গীকার করেছে স্বাধীনতা পরিষদ। অঙ্গীকারে পোশাক শিল্প-কারখানার মালিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে পোশাকশিল্প মালিকদের মতবিনিময় সভায় এই অঙ্গীকার প্রকাশ করেন পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই শতাধিক পোশাক কারখানার মালিক।  তাঁরা সকলেই বিজিএমইএর সদস্য।

সভায় জানানো হয়, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানোর পর আবার নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল বিজিএমইএর ৩৫টি পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই তফসিল ঘোষণার পরও অতীতের মতো নির্বাচনের পথে না হেঁটে সমঝোতার মাধ্যমে বিজিএমইএর নেতৃত্ব ঠিক করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে স্বাধীনতা পরিষদ। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি করে তারা।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক ও ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স লিমিটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প। আর এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিকদের নিয়ে গঠিত বিজিএমইএ। বর্তমানে এই শিল্প একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কিছু অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা। ফলে একসময়ের চার হাজারেরও বেশি সদস্যের এই সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।’

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ‘বিজিএমইএর নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় এটি একটি স্থবির সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ সদস্যরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি ও অবহেলার স্বীকার হচ্ছেন। এমন অবস্থায় পোশাকশিল্পের উন্নয়নকল্পে, বিজিএমইএতে সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা স্বাধীনতা পরিষদ গঠন করেছি।’

‘বিজিএমইএতে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নাই’—এ স্লোগান ও আসন্ন বিজিএমইএ নির্বাচন সামনে রেখে স্বাধীনতা পরিষদ ১৬টি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। অঙ্গীকারগুলো হলো :

 

১. বিজিএমইএর মূলশক্তি গার্মেন্টস মালিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পছন্দমতো নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

২. বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা সময়োপযোগী সহযোগিতার অভাবে ধীরে ধীরে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। স্বাধীনতা পরিষদের উদ্দেশ্য বিজিএমইএর এসব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

৩. সরকারের সব অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, কাস্টমস, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স এবং পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিজিএমইএকে শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৪. স্বাধীনতা পরিষদ সব সদস্যকে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যাতে সব প্রতিষ্ঠান একে অপরের সঙ্গে কর্মবিনিময়, প্রযুক্তি বিনিময় এবং একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারে।

৫. নির্বাচনে ছোট-বড় নির্বিশেষে সব গার্মেন্টস মালিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বর্তমানে ঘোষিত নমিনেশন ফি ৭০ হাজারের পরিবর্তে পাঁচ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হবে। মৃতপ্রায় গার্মেন্টস শিল্পগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা এবং বিজিএমইএর সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

৬. বিজিএমইএকে আধুনিকীকরণ করাসহ গবেষণা সেল গঠন, কর্মচারীদের যুগোপযোগী এবং সেবামুখী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

৭. বিজিএমইএতে নির্ধারিত বিভিন্ন সাব-কমিটিকে কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৮. শ্রম আইন, কলকারখানা আইন সংশ্লিষ্ট আইনসমূহকে বাংলাদেশের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৯. শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ভুল-ভ্রান্তি অবসানের লক্ষ্যে শ্রমিক নেতা ও মালিকদের নিয়মিত বৈঠক ও বিদ্যমান বিরোধ তথা ভ্রান্ত ধারণা দূর করা হবে।

১০. বর্তমানে অনেক শিল্পকারখানা সরাসরি রপ্তানি কাজ পায় না কমপ্লায়েন্সের অজুহাতে। ১০০০-এর কমসংখ্যক শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত কারখানাগুলোর কমপ্লায়েন্স শর্ত সহজ করা হবে, যাতে তারা সরাসরি কার্যাদেশ পেতে পারে।

১১. নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগের মাধ্যমে সহজ প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক সমঝোতা রক্ষা করা হবে।

১২. কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে ‘ইউনিফর্ম কোড অব কন্ডাক্ট’ তৈরি করা হবে; যা প্রত্যেক ক্রেতার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

১৩. ছোট-মাঝারি গার্মেন্টস কারখানাগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন ও বোঝাপড়া তৈরির জন্য একটি অ্যাপস-এর মাধ্যমে সর্বক্ষণ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে; যাতে গার্মেন্টসের মালিকরা উপকৃত হয় ।

১৪. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করে জিএসপি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ ও সময়কাল বৃদ্ধি করা হবে।

১৫. যুক্তরাষ্ট্রের গার্মেন্টস পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য ইউএস সিনেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

১৬. রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisement