Beta

খেলাপি ঋণের জন্য কাউকে জেলে যেতে হবে না : অর্থমন্ত্রী

০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খেলাপি ঋণ নিয়ে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি : এনটিভি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, খেলাপি ঋণের জন্য কাউকে জেলে যেতে হবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সব সুযোগ সুবিধাই দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ৯ শতাংশ সুদে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা করা হবে। আর যেসব ব্যাংক মূলধন সংকটে ভুগছে তাদের একীভূতকরণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তবে আজ অপর এক অনুষ্ঠানে ‘ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অর্থমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরেই বিশাল আকারের খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে ভুগছে দেশের অর্থনীতি। আর এ থেকে বের হতে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। এর আগে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৭ শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণের কথা বলেছিল সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসে খেলাপি ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। আর এই ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হবে ১২ বছর।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল নিজেও ব্যবসায়ী পরিবারের। আর তাই ব্যবসায়ীদের কষ্টের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণের জন্য কাউকে জেলে যেতে হবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংকের যে সুদহার তা দিয়ে কারো পক্ষেই ব্যবসা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক ব্যাংক ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ হার নিচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার পাশাপাশি তাদের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা করার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

যারা ভালো ঋণগ্রহীতা, চেষ্টা করেছে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য, বিভিন্ন কারণে হয়তো পারে নাই। তাদেরকে আমরা রিলিফ দিচ্ছি। তারা ২ শতাংশ হারে ডাউন পেমেন্ট দিলে আগে এটা ৭ শতাংশ ছিল কিন্তু এটা এখন ৯ শতাংশ সরল সুদে শোধ দিতে হবে। এখন আর কেউ আপত্তি করবে না।

বর্তমানে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বীমা কোম্পানিগুলোর মূলধন ৫০০ কোটি টাকা করার কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী।

‘ওয়ান ইলেভেনে আমাকে জেলে দেওয়া হলো। আমি দুই বছর জেলে ছিলাম। শুধু এক জায়গায়, সাভারে আমার যে ফ্যাক্টরি আছে সেখানে আমার ৫৮ কোটি টাকা লোকসান হলো। আমার এই টাকাটা কে দিবে? আমাকে কিভাবে এক্সিট দিবেন সেখান থেকে? কী শাস্তি দিয়ে আমাকে মাফ করে দিবেন? আমাকে ফাঁসি দিবেন? সেই আইনও তো নেই। পৃথিবীর কোথাও খেলাপি ঋণের জন্য কোনো ব্যবসায়ীকে ফাঁসি দিছে বা জেলে পাঠাইছে?

আজ মঙ্গলবার পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স) লিমিটেডের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না। দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন তারল্য সংকটের চেয়ে বড় সমস্যা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। সেক্ষেত্রে সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, সম্পদের অপব্যবহার আমরা হতে দেব না। এ বিষয়ে আমি শক্ত ভূমিকা রাখব।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোকে বেপরোয়াভাবে ঋণ বিতরণ না করে, খেলাপি ঋণ আদায়ে মনোযোগী হতে বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির।

গভর্নর বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়া একেবারেই পরিহার করতে হবে এবং ঋণের অর্থ ফিরিয়ে আনার জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে। ব্যাংকের দৈনন্দিন ব্যবসা ও ঋণ দেওয়া চলবে কিন্তু সেগুলোর মান নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বড় বড় ঋণগ্রহীতারা যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করে না। পরবর্তী সময়ে রিশিডিউল করার সুযোগ নেই। তাদেরও কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন এই সুবিধাগুলো যেন খেলাপি ঋণ গ্রহীতারা না পায়।

সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ঋণ খেলাপির সংখ্যা দুই লাখের বেশি। আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭ সালের তুলনায় গত এক বছরেই খেলাপি ঋণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলনে বক্তারা তাই- ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আর্থিক খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তাঁরা।

Advertisement