Beta

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কাঁচা চামড়া কিনবেন ট্যানারি মালিকরা

১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৫ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেছে। ছবিটি আজ বুধবার দুপুরে তোলা। ছবি : ফোকাস বাংলা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে অবিলম্বে নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন। কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য চামড়া ব্যবসায়ী ও সংরক্ষণকারীদের প্রতি আগেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কাঁচা চামড়া নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনকে পূর্বে নির্ধারিত সময় ২০ আগস্টের আগেই জরুরি ভিত্তিতে কাঁচা চামড়া কেনার অনুরোধ জানায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে কাঁচা চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

ঈদের আগে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কোরবানির চামড়া নিয়ে যাতে কোনো কারসাজি বা সিন্ডিকেট না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।’  

গত সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরবানির পর পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানিদাতারা। কোনো কোনো এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। কেউ কেউ রাস্তায় ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে শোরগোল চলছে।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে গরু থেকে পাওয়া যায় ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ চামড়া, ছাগল থেকে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, মহিষ থেকে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ ও ভেড়া থেকে ১ দশমিক ২ শতাংশ চামড়া পাওয়া যায়। বছরে মোট প্রাপ্ত চামড়ার শতকরা ৬০ ভাগই আসে কোরবানিতে জবাই করা পশু থেকে।

Advertisement