Beta

হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে ফের শিক্ষার্থীদের অবস্থান

১০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:০৪ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:২৩

বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিজস্ব সংবাদদাতা
পুলিশের হামলা প্রতিবাদে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। ছবি : এনটিভি

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন রাখেন, ঢাবি উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের হামলার বিচার যদি হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার কেন হবে না? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনকে এর জবাব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার করতে হবে। 

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনটি মিছিল এসে মিলিত হয় রাজু ভাস্কর্যে। সেখানেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া লিখিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন। 

আন্দোলনকারীদের পক্ষে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন,  আগামী সাত দিনের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবি না মেনে নিলে আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী তিন দিনের ভেতরে কোটা সংস্কারের বিষয়ে দাবি মানার লিখিত দিতে হবে। আর সাত দিনের ভেতরে যদি কোনো আইনকানুন সংশোধন করার দরকার হয়, তা করে নির্দিষ্ট করে আমাদের জানাক সরকার। যদি তা না করেন, তবে আমরা আরো কঠোর হবো।’ 

মোহাম্মদ জুবায়ের আরো বলেন, ‘মতিয়া চোধুরীকে আজ বিকেল ৫টার ভেতরে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি সারা বাংলার ছাত্রসমাজকে রাজাকার বলেছেন।’

এ সময় মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আমাদের হলে নিরাপদ নই, ক্যাম্পাসে নিরাপদ নই। তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাছি।’

অনিন্দিতা নামে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবির আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ভিসির বাসভবনে হামলাকারী কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। আন্দোলনের নামে যারা ভিসির বাসভবনে হামলা করেছে, তাদের বিচার হবে। আমাদের প্রশ্ন, যারা ক্যাম্পাসে ঢুকে রামদা নিয়ে শিক্ষার্থীদের হামলা করল, পুলিশ টিয়ার শেল গুলি ছুড়ল, হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হলো, রক্ত ঝরল সেই হামলাকারীদের বিচার তো তিনি চাইলেন না।’

রাকিব নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুলিশ হলে হলে টিয়ার শেল, গুলি ছুড়েছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। ঢাবি প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে। আমরা এমন অথর্ব প্রশাসন চাই না। আগে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক, পুলিশকে আমরা দেখতে চাই না।’

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সম্প্রতি ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও। সর্বশেষ গতকাল সোমবার সরকারের আশ্বাসে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement