Beta

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন হবে : উপাচার্য

৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। ছবি : এনটিভি

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট নামে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এ কথা জানান তিনি।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান এ সময় বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে ডাকসু নির্বাচনে। বর্তমান শিক্ষার্থীরাও ডাকসুর গুরুত্ব অনুধাবন করছে। আমরা ডাকসু নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনকে সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার সদিচ্ছা রয়েছে আমাদের।

‘ডাকসুর যে গঠনতন্ত্র আছে, সেটি অনুমোদিত হয়েছে, কোড অব কন্ডাক্ট অনুমোদিত হয়েছে, আমরা ওই দুটি দলিলকে সামনে রেখেই ডাকসু নির্বাচনের জন্য সব ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাব। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুযোগ প্রদান নয় বরং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির মাধ্যমেই আমরা ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’

বিতার্কিকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্য, এখানে ভিন্ন মতের গুরুত্ব সব সময় আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করি। এখানে বিভিন্ন মত ও বিভিন্ন দর্শনের মানুষ থাকে, এই মর্যাদার জায়গাটি এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভিন্নমতকে আমরা শ্রদ্ধা করি, এটা সম্মানের। আমরা সেই আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে চাই। আজকের বিতার্কিকরা ডাকসুর গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে প্রায় ১০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাথাঁ ও ইতিহাস তুলে ধরেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে বিতার্কিকরা যে চিন্তা চেতনা ও যুক্তি তুলে ধরেছেন তা আমাদের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। আগামীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের চিন্তা-ভাবনা চলছে। ২০১৯-২০ সালে যারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে তারা নতুন পদ্ধতিতেই পরীক্ষা দেবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টার নির্ভর যাতে না হয়ে ওঠে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আমাদের দেশে বিসিএস, মেডিকেল, ডেন্টাল ও ক্যাডেট কলেজগুলোতে সমন্বিত পদ্ধতিতে একই দিনে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে না। উচ্চশিক্ষায় দুই নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় মেধা যাচাইয়ের কোনটি উত্তম পন্থা সেটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিপদ্ধতি কী হবে তার একটি যৌক্তিক সমাধান বের করতে হবে। তা না হলে ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা ও মানসিক চাপের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমণের হার বাড়তেই থাকবে।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মেধা যাচাইয়ের উত্তম উপায়’ বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। এতে বিজীয় হয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। বিতর্ক প্রতিযোগিতা সঞ্চালনা করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এতে বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাব্বির নেওয়াজ, মোস্তফা মল্লিক ও রোজিনা ইসলাম। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement