Beta

ডাকসুর ভিপি নুরের সাক্ষাৎকার

হলে ছাত্র নির্যাতন বন্ধ করব, অছাত্রদের নামিয়ে দেব

১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৫

মাসুদ রায়হান পলাশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদ্য নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে দ্রুত অছাত্রদের নামিয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে হলে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যাবতীয় নির্যাতন বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নুর এই মন্তব্য করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর গত ১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীকে হারিয়ে ভিপি নির্বাচিত হন। ১৩ নম্বর ব্যালট নিয়ে তিনি পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ১৬ নম্বর ব্যালট নিয়ে তিনি পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট। নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে জিএস, এজিএসসহ ২৩টি পদই পেয়েছে ছাত্রলীগের প্যানেল। আর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ পেয়েছে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ। নির্বাচনে কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ পাঁচটি প্যানেল পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।

এই অবস্থায় সদ্য নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছে এনটিভি অনলাইন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ রায়হান পলাশ।

এনটিভি অনলাইন : ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন, কেমন লাগছে?

নুরুল হক নুর : বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে নির্বাচন উপহার দিয়েছে তাতে ভালো লাগার উপায় কোথায়? সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ভালোভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে আমাদের পুরো প্যানেল পাস করে নির্বাচিত হতো। তবে এটা ভেবে ভালো লাগছে যে ছাত্রলীগ এবং প্রশাসনের সহায়তায় ভোট কারচুপি করেও আমাকে ফেল করানো সম্ভব হয়নি। এত সব অপসংস্কৃতি চর্চা না করলে ব্যক্তিগতভাবে আমি আরো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতাম।

এনটিভি অনলাইন : বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তিন দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছেন। অথচ এই নির্বাচনেও আপনি ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। এখন নিজের অবস্থান কোন দিকে? দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কী?

নুরুল হক নুর : আমার অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা করতে বলবে আমি তাই করব। কারণ তাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। আমাকে নির্বাচিত করতে গিয়ে অনেকেই হামলার সম্মুখীন হয়েছেন, প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। আমি আন্দোলনের পক্ষে। কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। আমি দায়িত্বও গ্রহণ করব। কারণ আমাকে ভোট দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিপি নির্বাচিত করেছেন। আমিও তো চাই, পুনরায় নির্বাচন হোক। এই নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।

এনটিভি অনলাইন : বিশ্ববিদ্যালয় যদি পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে যায় তখন কী হবে? কোন প্রক্রিয়ার নির্বাচন চান? জোটে নাকি এককভাবে?

নুরুল হক নুর : বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে গেলে একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। হলে ভোটগ্রহণ না করে অবশ্যই একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ করতে হবে। আমাদের পোলিং এজেন্টকে ভোট কক্ষে অবস্থান করতে দিতে হবে। এ ছাড়াও নির্বাচনের আগে আমাদের যে দাবিগুলো ছিল সেগুলো মেনে নিতে হবে। আর জোটে যাওয়ার কিন্তু দরকার হবে না। সুষ্ঠু ভোট হলে আমার প্যানেল থেকে সবাই জিতে যাবে। পরিস্থিতি সব বলে দেবে কখন কোনটা কীভাবে হবে।

এনটিভি অনলাইন : ডাকসুতে নির্বাচিত অধিকাংশ প্রার্থীই ছাত্রলীগের। আপনি অনেকবার তাদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন। সেই তাদের সঙ্গে থেকে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন?

নুরুল হক নুর : আমাদের যে নির্বাচনী ইশতেহার ছিল আমি তার সব কিছু মাথায় রেখে কাজ করব। সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, আমি যেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি সেহেতু আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সব কাজের উদ্যোগ নেব। এখানে ছাত্রলীগের একক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোটা টাফ হয়ে যাবে। কারণ আমাদেরও তো মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়াও আপনি জানেন যে, ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ভাই আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাই সবার মতামত দিবেন, এর ভেতরে থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদ্য নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি : সংগৃহীত

এনটিভি অনলাইন : ভিপির দায়িত্ব গ্রহণ করে কী কী কাজ করতে চান?

নুরুল হক নুর : প্রথমে হলগুলো থেকে অছাত্রদের অর্থাৎ যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না অথবা যে সব শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শেষ তাদেরকে হল থেকে নেমে যেতে বলা হবে। না নামলে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়াও হলে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় সেগুলো বন্ধ করা হবে। এক কথায় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন হলে উঠে কোনোভাবে ঝামেলার সম্মুখীন না হয় সেদিকে সব চেয়ে বেশি খেয়াল থাকবে আমার।

এনটিভি অনলাইন : আর কী কী কাজ করতে চান?

নুরুল হক নুর : সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যখন যে কাজ করার দরকার সেই কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টিসহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা আছে মাথায়। মাত্র নির্বাচিত হলাম। অনেক কিছু নিয়েই কাজ করতে হবে। পরে ক্লিয়ার করে বিস্তারিত আপনাদের জানানো হবে।

এনটিভি অনলাইন : নতুন সংগঠন আপনার। নতুন সংগঠন থেকেই আপনি ভিপি নির্বাচত হয়েছেন। এই সংগঠনকে সারা বাংলাদেশে প্রসার ঘটানোর কোনো উদ্যোগ আছে কি না?

নুরুল হক নুর : মাত্র নির্বাচিত হলাম। এখন বেশি বেশি মনোনিবেশ দিতে চাই ডাকসু নির্বাচনে আমাদের যে ইশতেহার ছিল সেদিকে। ইশতেহারের সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তারপর অন্য কিছু ভাবা যাবে।

এনটিভি অনলাইন : বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নজর দিলে দেখতে পারবেন আপনাকে নিয়ে জামায়াত-শিবির প্রসঙ্গে প্রচুর কথা হচ্ছে। আপনার বক্তব্য কি?

নুরুল হক নুর : আমরা যখন প্রথম কোটা আন্দোলনে নামি সে সময় রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদেরকে ভালোভাবে নেয়নি। তখনই নানাভাবে আমাদেরকে জামায়াত-শিবিরের ব্লেইম দেওয়া হয়েছিল অযথা। অথচ আন্দোলনে কঠোর অবস্থানে থাকা আমাদের অনেক নেতার বাসায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কম ঘোরাঘুরি করেনি। জামায়াত-শিবির হলে নিশ্চয় গোয়েন্দারা সেই তথ্য বের করতে পারত। তারা কিন্তু পারেনি। অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, আমাকে জামায়াত-শিবির বলা হলেও আমি এক সময় হলের পোস্টেড নেতা (২০১৫ সালের ৭ জুন অনুমোদন পাওয়া ঢাবির হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক) ছিলাম।

এনটিভি অনলাইন : ধন্যবাদ

নুরুল হক নুর : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Advertisement