Beta

সিনেট ও ডাকসু থেকে শোভন-রাব্বানীকে বহিষ্কারের দাবি

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:২৩

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে তারা এই বিক্ষোভ করে। ছবি : এনটিভি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে গোলাম রাব্বানীকে বহিষ্কার এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। একই সঙ্গে তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুর্নীতির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আজ রোববার মধুর ক্যান্টিনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে সমাবেশ করে।

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ দেবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন  ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা, ঢাকা মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের আহ্বায়ক সৈকত আরিফ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ডাকসুর যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তা ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে। ডাকসুর জিএসকে চাঁদাবাজির দায়ে খোদ তাঁর নিজের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা একই সাথে জানতে পেরেছি ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাবির ভিসি অনেককে চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি করে ডাকসু ইলেকশনের সুযোগ করে দিয়েছেন। উনারা প্রত্যেকেই ঢাবির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছনে। তাই আমরা অবিলম্বে ডাকসু জিএস থেকে গোলাম রাব্বানীকে বহিষ্কারের দাবি জানাই। একই সাথে ডাকসু ভিসির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত চাই।

সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ সুজন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএসকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদাবাজের অভিযোগে যারা দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন তাঁরা ডাকসু ও সিনেটের সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন না। আমরা অবিলম্বে তাদের ডাকসু ও সিনেটের সব পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই। একই সাথে আমরা দেখেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নপ্রকল্পে দুর্নীতির যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ও ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী করেছেন সে ঘটনায় আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। দলীয় বিচার দল করবে কি করবে না তা একান্তই তাদের দলীয় ব্যাপার, কিন্তু এসব দুর্নীতির বিচার অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে করতে হবে। আর আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পূর্ণরুপে সমর্থন জানাই।

জাহিদ সুজন আরো বলেন, ডাকসু নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হয়েছে তখন আমাদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল এ নির্বাচন আসলে জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের হলে বেশি কারচুপি হয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে তাদের নিয়ে চলছিলেন। মাঝপথে কী হলো আমরা তো দেখলাম।

এদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এত বড় সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপ নজিরবিহীন ঘটনা। এত বড় অ্যাকশন বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের ইতিহাসে আর নেওয়া হয়নি।

আজ রোববার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভুলতা ফ্লাইওভার পরিদর্শন করে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নিয়েছে। তাই যত বড় ক্ষমতাধর হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে আছে এভাবে একটি কমিটি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে অব্যাহতি দেওয়া, পদত্যাগ করতে বলা, এটা তো একটা বিরাট সাংগঠনিক পদক্ষেপ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ রকম একটা বড় পদক্ষেপ এ দেশে কখনো, কোনো সংগঠনে ঘটেনি।’

Advertisement