Beta

‘যে সত্য পথে চলে তার পুরস্কার বাতিল করা হয়’

০৮ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪০ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫০

‘নিয়তি’ ছবিতে কাজ করেননি, অথচ সেই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ হাবিব। বিষয়টি তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬ কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। আর একই বিভাগে পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ‘অনেক দামে কেনা’ ছবিটি। হাবিব চেয়েছিলেন তাঁকে যেন এই ছবির জন্য পুরস্কৃত করা হয়,  কিন্তু তা আর হয়নি। পুরস্কার প্রদান কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তথ্য মন্ত্রণালয় এবার এই পুরস্কারটি বাতিল ঘোষণা করে। আর এতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পুরস্কার কমিটির নির্বাহী সদস্য আবু মুসা দেবু। 

এনটিভি অনলাইনকে আবু মুসা দেবু বলেন, ‘আমি হাবিবকে ধন্যবাদ জানাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ না করার জন্য। সে তো পারত পুরস্কারটি গ্রহণ করতে। কিন্তু তা না করে সে আমাদের পুরস্কার কমিটির কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, যে ছবির জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে তিনি কাজ করেননি। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ছবিটির গানে তিনি কাজ করেছেন। সেই ছবির জন্য যেন তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের কমিটির সঙ্গে কোনো কথা না বলে এই পুরস্কারের ক্যটাগরিটি বাতিল করা হলো। বিষয়টি হাবিবের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আর যে অন্যায় করে অন্য ছবির সঙ্গে হাবিবের নাম দিয়েছিল, তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং তারই পক্ষ নেওয়া হয়েছে।’

নৃত্য পরিচালকের নাম অন্তর্ভুক্তি যাঁরা করেছেন, তাঁদের ইঙ্গিত করে আবু মুসা আরো বলেন, ‘আসলে এই বিষয়ে কিছু বলার নেই। যে অন্যায় করবে তার শাস্তি হবে না, কারণ তার টাকা আছে। আর যে সত্য পথে চলে তার পুরস্কার বাতিল করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা কমিটিতে কথা বলব। অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’

পুরস্কারবঞ্চিত নৃত্য পরিচালক হাবিব বলেন, ‘আমি কোনো পুরস্কার নয়, ভালো কাজের নেশা থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অবশ্যই আমি পেতে চাই। এবং তা নিজের যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করব। আমি দুঃখ পেয়েছি, কারণ এ বছর আমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে, আবার দ্বিতীয় অবস্থানটিও আমার ছিল। অন্যায়ভাবে একটি ছবিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, এটি জানিয়ে আমি দ্বিতীয়টির জন্য পুরস্কারটি গ্রহণ করতে চেয়ে চিঠি দিই। সত্য স্বীকার করাটা অন্যায় হতে পারে না। আমি এর প্রতিবাদ জানাই এবং যারা প্রতারণা করেছে তাদের শাস্তি দাবি করি।’

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নিয়তি’ ছবিটি জাজ প্রযোজনা করেনি বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি। অথচ ২০১৬ সালে ‘নিয়তি’ মুক্তির আগে ও পরে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে, এমনকি নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলেও জাজ দাবি করেছে এই ছবিটির প্রযোজক তারা। কিন্তু এ বছর এনটিভি অনলাইনে পুরস্কার কেলেঙ্কারি নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রযোজনার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে জাজ মাল্টিমিডিয়া। জাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলিমুল্লাহ খোকন এনটিভি অনলাইনকে গত এপ্রিল মাসে জানান, ছবিটি তাঁরা প্রযোজনা করেননি, শুধু পরিবেশন করেছেন।

একনজরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬, তবে এর মধ্যে ১৩ নম্বর ক্যাটাগরিটি বাতিল করা হয়েছে
১. আজীবন সম্মাননা : যৌথভাবে ববিতা ও ফারুক
২. শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র : অজ্ঞাতনামা (ফরিদুর রেজা সাগর)
৩. শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : ঘ্রাণ (এস. এম. কামরুল আহসান)
৪. শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র : জন্মসাথী (একাত্তর মিডিয়া লিমিটেড ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর)
৫. শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক : অমিতাভ রেজা চৌধুরী (আয়নাবাজি)
৬. শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে : চঞ্চল চৌধুরী (আয়নাবাজি)
৭. শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে : যৌথভাবে তিশা (অস্তিত্ব) ও কুসুম শিকদার (শঙ্খচিল)
৮. শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রের : যৌথভাবে আলী রাজ (পুড়ে যায় মন) ও ফজলুর রহমান বাবু (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে)
৯. শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রের : তানিয়া আহমেদ (কৃষ্ণপক্ষ)
১০. শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/ অভিনেত্রী খল চরিত্রে : শহীদুজ্জামান সেলিম (অজ্ঞাতনামা)
১১. শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী : আনুম রহমান খান সাঁঝবাতি (শঙ্খচিল)
১২. শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক : ইমন সাহা (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে)
১৩. শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক : মো. হাবিব (নিয়তি)
১৪. শ্রেষ্ঠ গায়ক : ওয়াকিল আহমেদ (অমৃত মেঘের বারি, চলচ্চিত্র : দর্পণ বিসর্জন)
১৫. শ্রেষ্ঠ গায়িকা : মেহের আফরোজ শাওন (যদি মন কাঁদে, চলচ্চিত্র : কৃষ্ণপক্ষ)
১৬. শ্রেষ্ঠ গীতিকার : গাজী মাজহারুল আনোয়ার (বিধিরে ও বিধি, চলচ্চিত্র : মেয়েটি এখন কোথায় যাবে)
১৭. শ্রেষ্ঠ সুরকার : ইমন সাহা (বিধিরে ও বিধি, চলচ্চিত্র : মেয়েটি এখন কোথায় যাবে)
১৮. শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার : তৌকীর আহমেদ (অজ্ঞাতনামা)
১৯. শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার : যৌথভাবে অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম (আয়নাবাজি)
২০. শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা : সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন (আন্ডার কনস্ট্রাকশন)
২১. শ্রেষ্ঠ সম্পাদক : ইকবাল আহসানুল কবির (আয়নাবাজি)
২২. শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক : উত্তম গুহ (শঙ্খচিল)
২৩. শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক : রাশেদ জামান (আয়নাবাজি)
২৪. শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক : রিপন নাথ (আয়নাবাজি)
২৫. শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা : যৌথভাবে সাত্তার (নিয়তি) ও ফারজানা সান (আয়নাবাজি)
২৬. শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান : মানিক (আন্ডার কনস্ট্রাকশন)

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement