Beta

রানু মণ্ডলের জীবনের সাত অধ্যায়

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৯

অনলাইন ডেস্ক
হালে গান গেয়ে আলোচিত গায়িকা রানু মণ্ডল। ছবি : সংগৃহীত

সংগীতজগতে এখন এক আলোচিত নাম রানু মণ্ডল। তাঁর গানের জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ তারকা থেকে শুরু করে জনসাধারণও। রূপকথার গল্পকেও অনেকাংশে হার মানিয়ে তিনি এখন কেবল ভারত নয়, গোটা উপমহাদেশের আলোচিত ব্যক্তি। তাঁর উত্থান যেমন আশ্চর্যজনক, তেমনি রানুর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে বিস্ময়কর সব গল্প জড়িয়ে আছে।

চলুন, রানু মণ্ডলের বিস্ময়কর জীবনকাহিনীর সাতটি অধ্যায় জেনে নেওয়া যাক :

* কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ‘এক পেয়ার কা নাগমা হ্যায়’ গেয়ে ‘কলকাতার লতা মঙ্গেশকর’ উপাধি পেয়েছেন রানু মণ্ডল।

* রানুর পুরো নাম রানু মারিয়া মণ্ডল। তিনি ‘রানু ববি’ নামেও পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে জন্ম নেওয়া রানু শৈশবেই মাকে হারান। এর পর অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন রাঙাহাটের খালাবাড়িতে। অল্প বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল রানুর।

* মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রতিবেশী বাবলু মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় রানুর। স্বাতী রায় নামে তাঁদের একটি কন্যা রয়েছে।

* রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়ার পরে এক দশকের বিচ্ছেদ সমাপ্ত করে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান স্বাতী।

* রানু উপার্জনের জন্য তাঁর স্বামীর সঙ্গে মুম্বাইতে যান। সেখানে তিনি ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করেন। একটি নাইট ক্লাবে গানের চাকরিও করেন তিনি। এই সূত্র ধরেই তিনি ‘রানু ববি’ নামে পরিচিতি পান। নাইট ক্লাবে গান গাওয়ার বিষয়টি স্বামী মেনে না নেওয়ায় অবশ্য রানুকে একসময় চাকরিটি ছেড়ে দিতে হয়।

* স্বামীর মৃত্যুর পরে রানু বেশ মানসিক অবসাদে ভোগেন। এ সময় তিনি রানাঘাটে ফিরে যান। দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকা রানু অর্থ উপার্জনের জন্য রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশনে গান গাইতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রানুর জীবনের বাঁক আকস্মিকভাবে বদলে যায়। রেলওয়ে স্টেশনে অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামের ২৬ বছর বয়সী একজন ইঞ্জিনিয়ার রানুর গানের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি অতীন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পরে তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। গানটি রাতারাতি লাখবারেরও বেশি দেখা হয়।

* রানু মণ্ডল কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও মোহাম্মদ রফির ভক্ত। সম্প্রতি রানুকে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সুপারস্টার সিঙ্গার’-এ দেখা গেছে। কেবল তা-ই নয়, খাতিমান সংগীত পরিচালক হিমেশ রেশমিয়ার সিনেমা ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হীর’ সিনেমাতেও প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ‘তেরি মেরি কাহানি’ শিরোনামে তাঁর এ গান এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গেয়েছেন আরো দুটি গান। প্লেব্যাকের জন্য ছয় থেকে সাত লাখ রুপিও পেয়েছেন রানু।

প্রতিভাবান রানু মণ্ডলের পথচলা কেবলই শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, আলোচনা-সমালোচনাকে সহ্য করে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন অসাধারণ গায়কির রানু মণ্ডল। সূত্র : বলিউড বাবল

Advertisement