Beta

অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহের কারণ, চিকিৎসা

১১ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৪৬

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
সাধারণের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি হওয়া অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহের অন্যতম উপসর্গ। ছবি : সংগৃহীত

অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে নন-স্পেসিফিক ইউরেথ্রাইটিস। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মূত্রনালিতে প্রদাহ হয়। অথবা মূত্রনালি ফুলে যায়। যেসব পুরুষ যত্রতত্র যৌনক্রিয়া করে এবং যে পুরুষদের একাধিক যৌন সঙ্গিনী রয়েছে, তাদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহের কারণ কী?

কিছু জীবাণু, যেমন—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস অথবা ছত্রাক দিয়ে অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহ হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ক্লামাইডিয়া, মাইকোপ্লাজমা ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস। একই সময়ে একাধিক জীবাণু আপনার মূত্রনালির প্রদাহ ঘটাতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুটিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অরক্ষিত যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে আপনি এ সংক্রমণে সংক্রমিত হতে পারেন। যৌন সংক্রমণকে তখনই অরক্ষিত বলা হয়, যখন কনডম ব্যবহার করা না হয়।

আপনার যৌনসঙ্গীর গোসলের সাবান, শুক্রনাশক পদার্থ ইত্যাদি দিয়েও আপনার মূত্রনালির প্রদাহ হতে পারে। এসব দ্রব্য আপনার মূত্রনালিতে ঢুকে জ্বালাপোড়া করতে পারে এবং মূত্রনালি ফুলে যেতে পারে। কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত পেলে বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে মূত্রনালির প্রদাহ ঘটাতে পারে।

অনির্দিষ্ট মূত্রনালি প্রদাহের উপসর্গ

অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহে অনেক সময় আপনার কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। উপসর্গের মধ্যে যেগুলো থাকে :

সাধারণের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি হওয়া

  • জ্বর
  • পেটেব্যথা
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া
  • লিঙ্গে ব্যথা অথবা চুলকানি
  • যৌন সঙ্গমের সময় ব্যথা করা
  • লিঙ্গ দিয়ে পাতলা ও সামান্য ঘোলা অথবা ঘন হলুদ সবুজ রস বের হওয়া

রোগ নির্ণয়

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনাকে বেশ কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন। আপনার যৌনসঙ্গিনীর বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন। আপনার যৌন ইতিহাস জানার পর আপনার সংক্রমণ ক্লামাইডিয়াজনিত কি না, তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনাকে নিচের যেকোনো পরীক্ষা করতে হতে পারে :

রক্ত পরীক্ষা

আপনার শরীর কেমন রয়েছে, তা জানার জন্য আপনার রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। আপনার হাত, বাহু অথবা কনুইয়ের ভাঁজের রক্তনালি থেকে রক্ত নেওয়া যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে। একবারের বেশি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

মূত্রনালির রস পরীক্ষা

একে ইউরেথ্রাল ফ্লুইড টেস্ট বলে। এখানে মূত্রনালির মধ্যে একটা কটন সোয়াব দিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়। এর পর এই রস মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে দেখা হয়, কোনো রক্তের শ্বেতকণিকা অথবা জীবাণু রয়েছে কি না। জীবাণু থাকলে বলা সম্ভব হয় সেটা কোন ধরনের জীবাণু।

প্রসাব পরীক্ষা

অন্তত এক ঘণ্টা প্রস্রাব ধরে রাখার পর প্রস্রাব সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিশেষ পরীক্ষার জন্য প্রস্রাব পাঠানো হয়। দেখা হয়, রক্তে শ্বেতকণিকা অথবা জীবাণু রয়েছে কি না।

চিকিৎসা

চিকিৎসার মাধ্যমে আপনার উপসর্গ কমে যেতে পারে। যদি জীবাণুর কারণে সংক্রমণ ঘটে, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক দিলে উপকার পাওয়া যায়। কিছু পুরুষের চিকিৎসা ছাড়াই অনির্দিষ্ট মূত্রনালির প্রদাহের উপসর্গ চলে যায়। যদি এমনটি ঘটে, তাহলেও চিকিৎসা করত হবে। কারণ, তখনো আপনার মধ্যে জীবাণু অবস্থান করে, যা আপনার মাধ্যমে অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারে। মূত্রনালির প্রদাহ প্রতিরোধ করার জন্য অবশ্যই আপনার এবং আপনার যৌনসঙ্গিনীর দুজনেরই চিকিৎসা করতে হবে। আঘাতজনিত কারণে মূত্রনালির প্রদাহ হয়, তাহলে দৈনিক কমপক্ষে দুবার ১৫ মিনিট করে হট বাথ নেবেন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement