Beta

শুচিবায়ুগ্রস্ততার লক্ষণ কী?

২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:২০

ফিচার ডেস্ক
শুচিবায়ুগ্রস্ততার লক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. মো. তাজুল ইসলাম ও ডা. সানজিদা হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

শুচিবায়ুগ্রস্ততা বা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার একটি মানসিক ব্যাধি। খুঁতখুঁতে স্বভাব বা অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়কে সাধারণত শুচিবায়ুগ্রস্ততার মধ্যে ফেলা হয়।  

এই রোগের লক্ষণের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩২৯৬তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. মো. তাজুল ইসলাম। ডা. মো. তাজুল ইসলাম বর্তমানে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মানসিক বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন :  কিছু লক্ষণ আমরা জানতে চাই?

উত্তর : মানসিক রোগের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন আমরা বড় রোগ বলি। ওসিডির আরেকটি নাম হলো শুচিবায়ুগ্রস্ততা। আমি লক্ষণগুলো সংক্ষেপে বলে যাই। প্রথমে হলো জীবাণু নিয়ে। জীবাণু তাকে আক্রান্ত করছে সব সময়, সেটাই সে ভাবতে থাকে। এটা ভাবতে থাকলে সারাক্ষণ সে হাত ধোবে। এমনভাবে হাত ধোবে যে সাবান দিয়ে ঘষতে ঘষতে চামড়া উঠে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়তো সে বাথরুমে বসে থাকবে। সে কাউকে তার বিছানায় বসতে দেবে না। কেউ বসলে আবার চাদরগুলো সে ধুতে চেষ্টা করবে। বাইরের কেউ এলে সে হয়তো হ্যান্ডশেক করতে চাইবে না। সে টেলিফোন ধরতে চাইবে না। এটা হলো ময়লাজাতীয়।

আরেকটি হলো সন্দেহ। একটি কাজ করা হলো, করার পরে সে হয়তো জানে যে কাজটি করা হয়েছে। তবে তার বারবার মনে হচ্ছে কাজটা করা হয়নি। সে হয়তো দরজা লক করে দিয়ে এসেছে। লক করে যে অফিসে চলে গেছে, কিন্তু এর পরও সে বারবার চেক করতে হয়তো বাড়িতে যাচ্ছে।

নামাজ পড়ছে, নামাজ পড়লে মনে হচ্ছে যে অজুটা ঠিকমতো হয়নি। বারবার অজু করছে।  সুরা ঠিকমতো হয়তো পড়া হয়নি। বারবার সুরা পড়ছে।

আরেকটি হলো সংগ্রহ করা। অনেক কিছু সংগ্রহ করতে চায়। একটির পর একটি আনতেই থাকে, আনতেই থাকে। গুরুত্বপূর্ণ হলো ধর্মীয় ও কিছু যৌন বিষয় থাকে। একজন খুব ধার্মিক মানুষ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে। তার হয়তো হঠাৎ করে ধর্মবিরোধী কথা মনে পড়ে। ধর্মের বিরুদ্ধে যখন তার কথা মনে পড়ে, তখন তার মনে হয় আমি কি শয়তান হয়ে গেলাম কি না, আমি কি পাপী হয়ে গেলাম কি না। এসব কারণে অবসেশন সহজেই প্রকাশ করে না, ৫/১০ বছর পর প্রকাশ পায়।

আবার কিছু সেক্সুয়াল ইমেজ হয়। খুবই নিকটাত্মীয়, যাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক চিন্তাই করি না, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেই সেই দৃশ্যগুলো বারবার চলে আসে। মা হয়তো ভাবছে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এমন। বিষয়টি ভীষণ কষ্টকর। রোগটা কিন্তু খুব যন্ত্রণাকর। যার হয়, সে বোঝে। বাইরের মানুষ বোঝে না।

Advertisement