Beta

‘ত্বকে আক্রমণকারী ছত্রাকের চরিত্র ও গঠনগত পরিবর্তন হচ্ছে’

১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১২

ফিচার ডেস্ক
ত্বকের ছত্রাকের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. রেজা বিন জায়েদ ও ডা. সানজিদা হোসেন। ছবি : এনটিভি

জীবনের কোনো না কোনো সময় ত্বকে ছত্রাকজনিত সমস্যা হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এটি খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। ত্বকের ছত্রাকজনিত সমস্যার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. রেজা বিন জায়েদ।

ডা. রেজা বিন জায়েদ বর্তমানে স্কিন স্কয়ার চর্মরোগ বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য প্রতিদিনের ৩৩২০তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : ত্বকে ছত্রাকজনিত সমস্যা হচ্ছে, কখন বলব?

উত্তর : অতি পুরোনো একটি বিষয়। বাংলাদেশে জানে না কেউ এ রকম নেই। বাংলাদেশে হয়নি কারো সারা জীবনে, এরও পরিমাণ কম। একে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বললে আরো ভালো করে বোঝা যাবে। বাংলায় খুবই প্রচলিত নাম দাদ।

যে কেউ এটি বুঝবে। গোলাকার, চক্রাকার, আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, মাঝখানটা খালি হতে থাকে, সঙ্গে চুলকানি হয়। একটি থেকে দুটো এভাবে হতে থাকে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় হয়। এটি নারী-পুরুষ সবারই হয়। পরিবারে অনেকের ভেতরে দেখা যায়। এমনকি বাচ্চাদেরও হয়।

আজকের আলোচনার বিশেষ একটি কারণ রয়েছে। এই ছত্রাক আগের পুরোনো ছত্রাক নয়। ধীরে ধীরে তার চরিত্রগত, গঠনগত দিকগুলো পরিবর্তন হয়েছে। চরিত্রগত বিশেষ পরিবর্তন হয়েছে। এখন মানুষ ছত্রাককে সহজভাবে নিতে পারছে না। বিশেষ করে যারা রোগাক্রান্ত, তাদের ভোগান্তিটা বেড়েই যাচ্ছে। সে জন্য আমি বিশেষ করে গত দুই বছরের পরিবর্তনের ওপর আলোকপাত করতে চাই।

ছত্রাক হচ্ছে, তবে যে রকমভাবে হওয়ার কথা ছিল, সে রকমভাবে নয়। আগেই বলছিলাম চক্রাকারে হয়, আস্তে আস্তে বাড়ে, মাঝখানে খালি হয়ে যায়। এখন ছত্রাক সে রকম নয়। এখন ছত্রাক দেখা যাচ্ছে, অর্ধচক্রাকার অথবা অনেক সময় দেখা যাচ্ছে লম্বাটে। অনেক সময় যে জায়গায় হওয়ার কথা নয়, সেই জায়গায় হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, বাসার সবাইকে যেখানে আক্রান্ত করার কথা, সেখানে সবাইকে আক্রান্ত করছে না। বিশেষ ধরনের চরিত্র। শুধু তাই নয়, ছত্রাকের যে নির্ধারিত ওষুধ রয়েছে, সেই ওষুধে কাজ হচ্ছে না। এটির জীবাণুগত কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ছত্রাকের চিকিৎসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে অথবা কাজ হচ্ছে না। এ জন্য বলা যায়, দাদের সমস্যা সহজে যাচ্ছে না। বেড়েই চলছে।

প্রশ্ন : তাদের ক্ষেত্রে কী করণীয়?

উত্তর : চেনার জন্য গঠনগত দিক দেখেই আমরা চিনে ফেলতাম। বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতাম না। এখন আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতে হচ্ছে। চামড়ার আক্রান্ত অংশ থেকে খুশকির মতো জিনিস নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পাঠাই। আগেও করা হতো। তবে দ্রুত দেখে ছেড়ে দিতাম। এবার কিন্তু এ রকম করলে হয় না। সে জন্য কালচারে যেতে হয়। কালচার আগে খুব একটা বেশি করা হতো না, তবে এখন এর প্রয়োজন হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টায় ফলাফল পাওয়া যায়। তবে এর ফলাফল পেতে ১৪ দিন লাগে। এরপরও আমরা কালচারের পক্ষে। কারণ, এতে কোন ফাঙ্গাস দিয়ে আক্রান্ত হলো, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেটা একটি বিষয়।

আরেকটি জিনিস হলো, এখন ডোজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে যে ডোজ চলত, দিলেই হয়ে যেত। এখন ডোজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এই ডোজটা অনেক বেশি পরিমাণের ডোজ। ত্বকে লাগানোর ওষুধের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন রয়েছে।

প্রশ্ন : কালচার হয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত কি কোনো চিকিৎসা আপনারা দেন না? নাকি শুরু হয়ে যায় চিকিৎসা দেওয়া?

উত্তর : ইদানীংকালে অনেকটা হাতে এসে গেছে। আমি বলছি, গত দুই বছরের কিন্তু সমস্যা এটা। দুই বছরে আমরা বুঝে গেছি এই কালচার করলেও অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। আমরা কিছু লাগানোর ওষুধ দিয়ে দিচ্ছি, যাতে উপসর্গগুলো আস্তে আস্তে কম হতে থাকে। কালচারের ফলাফল আসতে আসতে উপসর্গ অনেকটাই কমে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত যে ওষুধ সেটি দিই।

Advertisement