Beta

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? মেনে চলুন ৭ পরামর্শ

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৫ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৬

ফিচার ডেস্ক
শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। ছবি : সংগৃহীত

হৃদযন্ত্র মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি আমাদের সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বে বর্তমানে রোগে মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক (হৃদরোগ)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মারা যায়। হৃদযন্ত্রের অসুখের আশঙ্কা বাড়ায় রক্তের ভেতরে ভাসমান তরল চর্বি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড। তাই এসব চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেতন থাকা জরুরি।

কোলেস্টেরলকে ‘ভালো’ আর ‘খারাপ’ দুই ভাগে ভাগও করেছেন চিকিৎসকরা। এমনিতে প্রতিদিনই মানুষের শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হয়। প্রতি গ্রাম কোলেস্টেরল তৈরিতে পুরো একটা দিন সময় নেয় যকৃত। তার ওপর প্রতি দিনের খাবার থেকেও অল্প পরিমাণ কোলেস্টেরল শরীরে প্রবেশ করে। তাই খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, ধূমপান, অ্যালকোহল, শরীরচর্চায় অনীহা, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ— এসব কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের দিকে খেয়াল রাখলে এ সমস্যাকে অনেকটাই আয়ত্তে আনা যায়। শরীরচর্চা না করতে পারলেও অন্তত হাঁটাহাঁটি করুন প্রতিদিন। খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে ফেললে এমনিই শরীরে ভালো কোলেস্টেরল তার ভূমিকা পালনে অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠবে।

কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন-

১. খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। চর্বি ও তেল জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে। গরু বা খাসির মাংস খাওয়া বাদ দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো, খেলেও মাসে এক-দুবারের বেশি নয়, দুই টুকরোই যথেষ্ট। অতিরিক্ত চর্বিওয়ালা মাছ এড়িয়ে চলতে হবে। কেক, পেস্ট্রি, পনির, বেশি পরিমাণ ঘি-মাখন, অতিরিক্ত ডিমের কুসুমও এড়িয়ে চলতে হবে।

২. উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ খাবার ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের ওপর জোর দিতে হবে। খাদ্য তালিকায় ছোলা, শাকসবজি, ওটস, ব্রাউন রাইস, মল্টিগ্রেন ব্রেডস রাখতে হবে।

৩. ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করে দিতে হবে। মানসিক দুশ্চিন্তা কমিয়ে মন ভালো রাখার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

৪. মাছের তেলে প্রচুর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই এই তেল শরীরের জন্য ভালো। খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল রাখতে হবে।

৫. শরীরচর্চা আবশ্যক। জিমে যাওয়ার বা ব্যায়ামের জন্য অনেকটা সময় না পেলেও অন্তত হাঁটাহাঁটিটা বজায় রাখতেই হবে। দিনে অন্তত ৩৫ মিনিট জোরে টানা হাঁটতে হবে। এ ছাড়া সাইক্লিং, সাঁতার, সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামাও ভালো। এ ছাড়া ঘুম ও কায়িক শ্রম বাড়ানো প্রয়োজন। এক জায়গায় বসে কাজ হলে মাঝে মাঝেই উঠে হেঁটে আসা উচিত। ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এটিও একটি বিশেষ উপায়।

৬. রান্নায় তেলের পরিমাণ কমাতে হবে। ডালডা একেবারেই চলবে না। অলিভ অয়েল, কর্ন অয়েল, সয়াবিন বা সানফ্লাওয়ার তেলে রান্না করা ভালো।

৭. প্রতি ১২ সপ্তাহ একবার করে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান।

Advertisement