Beta

পড়ুয়াদের জন্য ‘বেঙ্গল বই’

১৮ মার্চ ২০১৮, ১৩:০১

মাহফুজ আল মুমিন

বইয়ের সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে বা বই নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে চলে যেতে পারেন লালমাটিয়ার ‘বেঙ্গল বই’ নামে বইঘরটিতে। সঙ্গে আছে চা-কফি বা হালকা নাশতার ব্যবস্থা। ‘বইয়ের মাঝে ডুব’ স্লোগান নিয়ে গত বছর ১৪ নভেম্বর ধানমণ্ডির লালমাটিয়ায় উদ্বোধন করা হয় চমৎকার এই বুকশপ ক্যাফে।

তিনতলা ভবনের এই বুকশপ ক্যাফের প্রথম তলায় রয়েছে একাডেমিক বই ও পুরোনো বই, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'বৈঠকখানা'। এখানে বসে পড়া যাবে একাডেমিক বই, পুরোনো বই ও ম্যাগাজিন। পাঠকদের জন্য রয়েছে আড্ডা দেওয়ার ব্যবস্থা। পছন্দ হলে বই নিয়েও যাওয়া যাবে, সেটি ফেরতও দিতে হবে না। তবে তার বিনিময়ে নিজের সংগ্রহ থেকে পুরোনো দুটি বই এখানে দিয়ে যেতে হবে। সবাই যেন এই জায়গাটাকে নিজের জায়গা ভাবতে পারে, সে জন্যই এ দেওয়া-নেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বই পড়া, আড্ডা দেওয়ার সময় এখানে মিলবে চা-শিঙাড়া। এ ছাড়া ছুটির দিন (শুক্র-শনিবার) সকালে করা যাবে সকালের নাশতাও।

দোতলায় উঠলেই চোখে মিলবে 'বইয়ের হাট'। এটা মূলত বই কেনার জায়গা। ১২ হাজার টাইটেলে প্রায় ৭০ হাজার বই রয়েছে এখানে। সবাই কিনতে পারবে এসব বই। অসুস্থ বা প্রতিবন্ধীরা হুইলচেয়ারে পুরো জায়গা ঘুরে নিজের পছন্দমাফিক বই কিনতে পারবেন। এখানে আছে বারান্দায় বসে কফি খাওয়ার ব্যবস্থা।

তৃতীয় তলাটা শিশুদের জন্য। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘আকাশকুসুম’। বাচ্চাদের বই পড়া, খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে এখানে। পাওয়া যায় পাঠ্যপুস্তকও। খাতা-কলম-পেনসিল ছাড়াও মিলবে ছবি আঁকার কাগজ, তুলি, রং। মাঝেমধ্যে বাচ্চাদের জন্য এখানে হয় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান। বাচ্চাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের জন্য আছে ম্যাগাজিন পড়ার ব্যবস্থা।

কথা হয় বেঙ্গল বইয়ের ডেপুটি ম্যানেজার আখতার হোসেনের সঙ্গে। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, 'রুচিশীল পাঠক তৈরির লক্ষ্যে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনে তৈরি আমাদের বই বিপণি প্রতিষ্ঠান। অল্পদিনে পাঠকদের এত কাছে যাব, তা কখনো ভাবতে পারিনি। শিগগিরই আমরা উত্তরায় আরেকটি বই বিপণিকেন্দ্র করব। আমরা চাই, সবার বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ুক এবং বইকে ভালোবাসুক।'

‘বেঙ্গল বই’-তে ঘুরতে আসা ইফতেখার আহমেদ নিপু বলেন, ‘বই পড়া যায়, কেনা যায় আর আড্ডা দেওয়া যায়, আমাদের দেশে এ ধরনের বই বিতান খুব কম। আমার এখানে এসে সত্যি অসাধারণ লাগছে। এমন আয়োজনকে অভিনন্দন জানাই।’

বেঙ্গল বইয়ের ভবনের সামনে আছে একটু খোলা জায়গা, যেখানে কখনো হয় নতুন বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান, কখনো কবিতা পাঠের আসর, কখনো সংগীতায়োজন, আবার কখনো হয় সাহিত্যসভা। বাংলাদেশের ২৫টি ও ভারতে ১৫টি প্রকাশনার বই পাওয়া যায় এখানে।

Advertisement