Beta

জয়তু টিম টাইগার্স

১৮ মার্চ ২০১৮, ১৬:০৭ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০১৮, ১৭:০৫

জাফর সোহেল

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২০তম ওভারের ৪র্থ বলে ওয়াইডকেই চারে  রূপ দেওয়ার ঘটনাটি আমার কাছে অসাধারণ সিদ্ধান্তই মনে হয়েছে এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ওই চারটাই পরের বলে ৬ মারার সাহস এনে দিয়েছে। এসবের বদৌলতে যা ঘটল, তা হলো্- বাংলাদেশ শেষ ওভারের স্নায়ু চাপের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে গেল। একই সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ ।

অনেকের হয়তো মনে আছে, মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে ছিলেন, তবু শেষ ওভারে স্নায়ু চাপের পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল  দুই রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। শুক্রবার আবারও সেই মুহূর্তই এসে গিয়েছিল।  কিন্তু, কেমন জানি মনে হচ্ছিল, এই টুর্নামেন্টে শ্রীলংকার সঙ্গে আগের ম্যাচের সিলসিলা এই ম্যাচেও বজায় থাকবে। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ফিনিশিং মাথায় থাকবে মাহমুদউল্লাহর ।  আমার কাছে প্রায়ই মনে হয়, ক্রিকেট একটা মনস্তাত্বিক একই সঙ্গে সংক্রামক খেলা। আবার একজন ভালো রান করলে আরেকজনের মধ্যেও ছন্দ চলে আসে।

এই সংক্রমণ তত্ত্বে দাঁড়িয়ে আমার  নিশ্চিত মনে হয়েছিল বাংলাদেশ শ্রীলংকার সঙ্গে অলিখিত সেমিফাইনালটি জিততে যাচ্ছে। শেষ ওভারে ১২ রানের হিসাবও সেই বিশ্বাসে চিড় ধরায়নি। এমনকি শেষ তিন বলে যখন ১০ দরকার, তখনো নয়। মাহমুদুল্লাহ সত্যি সত্যিই মুশফিক দ্বারা সংক্রমিত হলেন এবং হয়ে যা করলেন, তা এক কথায় ইতিহাস। কারণ, বাংলাদেশ এমন ম্যাচ আর কখনো জেতেনি। ভিনদেশের মাটিতে তাদের হাজার হাজার দর্শকের সামনে তো নয়ই।  সে সুযোগ ছিল ভারতের মাটিতে তাদের হারানোর। সেখানে মুশফিক ক্রিজে ছিলেন, কিন্তু অতি আশ্চর্যজনকভাবে ১ রানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশেকে।

কিন্তু এবার মুশফিকের বেলায়ও তেমন কিছু ঘটেনি, মাহমুদউল্লাহ ক্ষেত্রেও না। দুজনই চাপকে চেপে ধরে জয় তুলে এনেছেন। এখন এই সংক্রমণ যদি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, এই বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখে সাধ্য কার।  আজ বিকেলে কোহলি আর ধোনি বিহীন ভারতের কাছে তাই হারের কোনো চিন্তা আসাই উচিত না টাইগার শিবিরে। সে চিন্তা উল্টো ভারতীয় শিবিরকেই কাবু করবে বলে আমরা আশা করতে পারি।

যাই হোক  বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের ক্রিকেট। এই একটা জায়গা আছে যেখান থেকে আমরা কিছুদিন পরপর অন্তত মন খুলে হাসতে শিখি। আনন্দের আতিশয্যে আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরি। বাচ্চা ছেলেদের মতো লাফালাফি করি।  নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে যাই।  এমনকি ছোটখাট কারণে কারো সাথে বিরোধ থাকলে, তাও ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই, বুকে বুক মেলাই। এই যে অপরিসীম আনন্দ, এই যে উচ্ছ্বাসের রং, এই যে নানান রঙের সুখের বেসাতি- বাঙালি আর কিসে এতটা পায়? কোন সে অর্জন যা বাঙালিকে এতটা ভাসাতে পারে, এতটা হাসাতে পারে?  শ্রীলংকায় শুক্রবারের রূদ্ধশ্বাস জয়টির পরে টিভি পর্দায় দেখলাম মালয়েশিয়া থেকে উড়ে যাওয়া এক তরুণ কাঁদতে কাঁদতে টি-শার্ট ভিজিয়ে ফেলেছেন- এমন সুখের কান্না বাঙালিকে আর কোন ঘটনা, কোন অর্জন কাঁদাতে পারে? আমি দেখি না। এশিয়া কাপের ফাইনালে দুই রানের হারে কাঁদেনি কোন বাঙালি বলতে পারেন?

কিন্তু বুকটা ফুলে যায় বেশি করে কখন? যখন পরশুর মতো এমন জয় এসে পায়ে লুটায় টাইগারদের; যখন বাংলা ওয়াশের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে; যখন বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে যায় বাংলার দামাল ছেলেরা, তখন।

সুতরাং এই জায়গাটাকে, আমাদের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার এই উৎসকে একটু ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণের দরকার আছে। হুটহাট এটাসেটা না বলে আমাদের প্রশংসা আর সমালোচনার ভাষাগুলোকে একটু আগল পরিয়ে রাখার চেষ্টা থাকা উচিত সবার মধ্যে। হারজিত খেলায় আছে, মাঠে অনেক কিছুই ঘটে।  এসব নিয়ে সমালোচনার ডালি খুলে বসার কোনো মানে নেই।

আশাকরি আজ দিনের শেষে এই বিষয়গুলো আমরা মনে রাখব। হার হোক আর জিত হোক আমরা টাইগারদের পাশে থাকব। একটা কথা ভেবে দেখুন, ঘরের মাঠে হেরেছি বলে আমরা যে পরিমাণে সমালোচনায় নেমেছিলাম, মনে তো হয়েছিল সব বুঝি শেষ। কিন্তু সব কি শেষ হয়েছে? বিজয়ের আনন্দে কি আমরা ভাসিনি? আজ রাতেও আমরা বিজয় উৎসবই করব ।  কিন্তু কোনো কারণে তা যদি না হয়, আমরা যেন আমাদের সুখ-দুখের নায়কদের মুণ্ডুপাতের উৎসবে না মাতি। জয়তু টিম টাইগারস ...।  

লেখক : সাংবাদিক, আরটিভি

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement