পর্তুগালের ওয়ান ম্যান আর্মি রোনালদো

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র সাত দিন। বিশ্বকাপের হাওয়া এখন ভালোমতোই বইতে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। স্মৃতিতে ভেসে উঠছে অমর সব স্মৃতি। প্রতি বিশ্বকাপের আগে যেসব স্মৃতি রোমন্থন না করে আসলে থাকতে পারেন না ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আয়োজিত এনটিভি অনলাইনের বিশেষ আয়োজনে এবার থাকছে পর্তুগালের আশা-ভরসা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গ।
কিছু কিছু ফুটবল তারকার জন্ম ভুল সময়ে না হলেও ভুল দেশে হয়, নিঃসন্দেহে। দুনিয়া দাঁপিয়ে বেড়ালেও নিজের দেশের জন্য তাঁদের ‘তারকা’র তকমা তেমন কাজে লাগে না। কিংবা একা একা একটা দলকে কতটাই বা টেনে নেওয়া যায়? তেমনই একজন পর্তুগিজ ওয়ান ম্যান আর্মি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে পর্তুগালের সেরা সাফল্য সেই ১৯৬৬ সালে পাওয়া। সেবার তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল। এরপর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিচের সারির দল হিসেবেই থাকতে হয় পর্তুগিজদের। ২০১৪ সালেও দলটি ছিল না ফেভারিট। কিন্তু প্রচণ্ড রৌদ্রতাপে একপশলা বৃষ্টির মতো দলে ছিলেন গোলমেশিন রোনালদো। তাঁর ওপর ভরসা করে দলটি আশাবাদীও ছিল। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
এবার বিশ্বকাপে পর্তুগাল আছে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে আছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী স্পেন। এবারও ভরসা সেই রোনালদো। ব্রাজিল, স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি আছে সম্ভাব্য ফেভারিটের তালিকায়। এ তালিকায় না থাকাটা অবশ্য লাভই হয়েছে পর্তুগালের। ফেভারিটের তকমা না থাকায় অনেকটা নির্ভার হয়েই খেলতে পারবে তাঁরা।
নির্ভার হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন রোনালদোও। এই মৌসুমে তিনি গোলের দেখা পেয়েছেন ৪২টি। চ্যাম্পিয়নস লিগেই গোলের দেখা পেয়েছেন ১৫টি। এ তো গেল ক্লাবের কথা। পর্তুগালের পক্ষে ৮১টি গোল করে তিনি পর্তুগিজদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা। রাশিয়া বিশ্বকাপে পর্তুগাল তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।
অবশ্য রোনালদোর কাছে গোল করাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের জয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হাঙ্গেরিকে তাঁর দল ৩-০ গোলে হারানোর পর এমনই কথা বলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। আর বলবেনই বা না কেন? তিন গোলের দুটিই যে এসেছে রোনালদোর পাঁ থেকে।
পর্তুগালের জয়ের জন্য রোনালদোর গোল করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফল তা-ই বলছে। ইউরোপীয় অঞ্চলের ‘বি’ গ্রুপে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে পর্তুগাল। রোনালদো খেলেছেন চারটিতে, সবকটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। ওই চারটিতেই জিতেছে পর্তুগাল। একটা ম্যাচ হেরেছে গত সেপ্টেম্বরে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। যে ম্যাচে রোনালদো ছিলেন অনুপস্থিত।
ক্লাবের জার্সিতে মাঝে একটু সাদামাটাই ছিলেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। কিন্তু দেশের জার্সিতে তার আঁচ লাগতে দেননি তিনি। ক্লাবের জার্সি খুলে দেশের জার্সিতে আরো প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল হয়ে দুর্দান্ত রোনালদোই মাঠ কাঁপিয়েছেন।
নেলসন সেমেডো, বার্নার্দো সিলভা, পেপে, আন্দ্রে গোমেজদের নিয়ে গড়া মোটামুটি শক্তিশালী পর্তুগিজ শিবির হলেও শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল রোনালদো। বিশ্বকাপ মানেই পর্তুগিজদের চোখ একমাত্র রোনালদোর দিকে। এমনকি সতীর্থ, কোচও তাকিয়ে থাকেন এই ফরোয়ার্ডের দিকে। রোনালদো যেন ঠিক ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’।