Beta

হেরেছে রংপুর, জিতেছেন মাশরাফি!

০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৮ | আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্যাটসম্যানদের শট নির্বাচনের নিদারুণ ব্যর্থতা আর উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার মিছিলে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি নিজেও। ১১ বল খেলে মাত্র ২ রান করে পেসার খালেদ আহমেদের বলে মোহাম্মদ শেহজাদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাশ। বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে তাই মাত্র ৯৯ রানের পুঁজি গড়তে পারে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। কিন্তু সেখানেই ম্যাচের শেষ দেখে ফেলা বহু দর্শকের জন্য অর্ধেক বাকি রেখেছিলেন মাশরাফি। একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান মাশরাফি।

টসে জিতে কিছুটা পেস সহায়ক উইকেটে চিটাগং ভাইকিংসের বোলিং করার সিদ্ধান্তে অবাক হননি মাশরাফি। টসে জিতলে নিজেও বোলিং নেওয়ার কথাই জানান তিনি। চিটাগংয়ের দক্ষিণ আফ্রিকান মিডিয়াম পেসার রবি ফ্রাইলিংকের বলে শুরু থেকেই উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে ৩৫ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর রাইডার্স। তাই ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারার ৪৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংস সত্ত্বেও মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস।

এর পরই শুরু মাশরাফি ঝলকের। ওপেনিংয়ে চিটাগংয়ের বাঁহাতি ক্যামেরন ডেলপোর্টকে দেখে বোলিংয়ে নিজের সাথে আক্রমণে নিয়ে আসেন অফস্পিনার সোহাগ গাজীকে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ব্যস্ত রাখেন চিটাগংয়ের দুই ওপেনারকে। চমক দেওয়া অধিনায়কত্বের ফলাফল মেলে চটজলদি। দারুণ এক স্লোয়ারে ডেলপোর্টের উইকেট নিয়ে চিটাগংকে প্রাথমিক ধাক্কা দেন মাশরাফি নিজেই। এরপর ওয়ানডাউনে নামেন নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা আশরাফুল। আশরাফুলের শট খেলার ঝোঁকের কথা মাথায় নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বোলিংয়ে পরিবর্তন করে আনেন পেসার শফিউলকে। হাতেনাতে আরো একবার ফলাফল পান মাশরাফি। মাত্র তিন রান করে শফিউলের বলে টপ এজ হয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আশরাফুল।

বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত সব পরিবর্তন এনে অল্প পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জমিয়ে ফেলেন মাশরাফি। নিজের শেষ ওভারে অধিনায়ক মাশরাফি বোল্ড করেন অলরাউন্ডার নাইম হাসানকে।  আর জয়ের ১৫ রান দূরে থাকতে চিটাগংয়ের অধিনায়ক মুশফিক সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে গেলে ম্যাচ ঝুলে যায় পেন্ডুলামের মতো। শেষ পর্যন্ত রবি ফ্রাইলিংকের অপরাজিত ১২ রানের ওপর ভর করে একেবারে শেষ ওভারে গিয়ে জয় পায় চিটাগং।

ম্যাচ হেরে গেলেও অধিনায়ক মাশরাফির দারুণ নেতৃত্ব আর লড়াকু মানসিকতাই বড় প্রাপ্তি ছিল রংপুর রাইডার্সের। আসরের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য তাই আশায় বুক বাঁধতেই পারে রংপুরের সমর্থকরা।

Advertisement