Beta

অবশেষে কাভানা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারপতি, ট্রাম্পের জয়

০৭ অক্টোবর ২০১৮, ১০:১৮ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ১০:১৯

বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে সদ্য নিযুক্ত বিচারপতি ব্রেট কাভানা স্ত্রী-কন্যার উপস্থিতিতে দেশটির প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের কাছে শপথ নিচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স

যৌন হয়রানির উপর্যুপরি অভিযোগের দেয়াল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ব্রেট কাভানাই নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার সিনেটরদের ভোটে কাভানাকে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই দিনে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেছেন ব্রেট কাভানা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ আদালত মূলত গর্ভপাত ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কিংবা এ ধরনের স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে।

দেশটিতে আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কাভানার এই জয় ট্রাম্পের হাতকে শক্তিশালী করল বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। বিচারপতি নির্বাচনের আগে কাভানার মনোনয়নের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে বহু মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখান থেকে তিন শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষে ভোটের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। সেখানে ৫১/৪৯ আসনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবারের বিচারপতি নিয়োগে ৫০/৪৮ ভোটে কাভানাকে বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষের সদস্যরা।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, যাঁরা কাভানার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, ধরে নিতে হবে এটা তাঁদের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জবাব। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতা কাভানাকে ‘অত্যন্ত মেধাবী একজন আইনের ছাত্র এবং রাষ্ট্রের অনুগত সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদক অ্যান্থরি জার্চার অবশ্য এই বিচারপতি নির্বাচনকে ‘সবেমাত্র শুরু হওয়া রাজনীতির মাঠের যুদ্ধ‌’ বলে উল্লেখ করেছেন।

কাভানার বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ আসতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ১১ ঘণ্টার তদন্তে নামে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তের পর মূলত সিনেটররা কাভানাকে নিয়ে ভোটে অবতীর্ণ হন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য তাঁর মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিন ব্লাসি ফোর্ড যে অভিযোগ এনেছেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত যে তিনি ভুল নাম উচ্চারণ করছেন।’

যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত একজনকে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নারী ভোটাররা কীভাবে নেন, সেদিকেই নজর সবার।

Advertisement