Beta

কলকাতায় হলো বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা

২৮ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৫৩

কলকাতা সংবাদদাতা
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ বাংলাদেশ জাতীয় উন্নয়ন মেলা। ছবি : এনটিভি

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ বাংলাদেশ জাতীয় উন্নয়ন মেলা। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড  সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতেই এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করা হয়। উপদূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা।  

কলকাতা বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসানের সভাপতিত্বে চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোচক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সুগত মারজিত, ভারত চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সীতারাম শর্মা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় প্রমুখ।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বর্তমানে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সব বাধা ডিঙিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। প্রত্যাশা করছি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে অচিরেই উন্নীত হবে।  

বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী শোভনদেব বলেন, ‘যে সরকার তার দায়িত্ববোধ প্রমাণ করতে পেরেছে, যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে,  মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা প্রমাণ করতে পেরেছে, দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে—সেই শেখ হাসিনা সরকারকে আমরা চাইব।’

অধ্যাপক সুগত মারজিত বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে আগামীতে উন্নতি সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো উন্নতি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বিশ্ব-অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে চলমান সংকট এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে উদ্ভূত নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও যথোপযুক্ত রাজনীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতির প্রভাবে দেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রয়েছে। এ ছাড়া মাথাপিছু আয় বেড়ে এক হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে, রিজার্ভ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রেমিট্যান্স প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

মেলা উপলক্ষে বাংলাদেশ উপদূতাবাস প্রাঙ্গণে আর্থসামাজিক উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নের ওপর দৃষ্টিনন্দন ব্যানার, কাটআউট, পোস্টার ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় সামগ্রী নিয়ে প্রাঙ্গণটি সুসজ্জিত করা হয়। 

সেখানে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পোশাকশিল্প, ক্রীড়া, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সবুজ, নূরজাহান আলীম ও কলকাতার খ্যাতনামা শিল্পী সৈকত মিত্র।

Advertisement