Beta

চীনকে তাতাতে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

০৬ জুন ২০১৯, ১১:১২ | আপডেট: ০৬ জুন ২০১৯, ১২:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

তাইওয়ানের কাছে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে চীনকে তাতিয়ে দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রশাসনের হয়ে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির মধ্যস্থতা করছেন এমন চারজনের নাম প্রকাশ না করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের কাছে অস্ত্র বিক্রিবিষয়ক একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সম্ভাব্য এই অস্ত্র বিক্রয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন ওই চার মধ্যস্থতাকারী।

রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য এই অস্ত্র বিকিকিনির তালিকায় আছে ট্যাঙ্ক, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কামান।

তাইওয়ানের অস্ত্র ভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত যুদ্ধ ট্যাঙ্ক আগে থেকেই আছে। তবে প্রস্তাবিত ট্যাঙ্কগুলো অত্যাধুনিক। আর তাইওয়ানও নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে আগ্রহী।

স্বায়ত্ত্বশাসিত তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে চীন এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বল প্রয়োগ করতে কখনোই দ্বিধাবোধ করেনি বেইজিং। অন্যদিকে তাইওয়ানের অস্ত্রের প্রধান জোগানদাতা হলো যুক্তরাষ্ট্র।

তাইওয়ানকে অস্ত্রের জোগান দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে গত মার্চে জানিয়েছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। চীনের চাপ মোকাবিলা করতেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চাইছে তাইওয়ান। তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তাইওয়ান যেন নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে আইনগতভাবে বাধ্য যুক্তরাষ্ট্র।

তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে তাইওয়ানের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান ভয়াবহ বাণিজ্য যুদ্ধকে আরো খারাপ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিদেশে মার্কিন সামরিক বাণিজ্য বিষয়টি দেখভাল করা মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র জানান, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র বিক্রয় বা এ সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো মন্তব্য করবে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই অস্ত্র কেনা-বেচার বিষয়টি এগোচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বেইজিং।

Advertisement