Beta

দিল্লির ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত আর নেই

২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৯

কলকাতা সংবাদদাতা
ভারতের দিল্লির তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শীলা দীক্ষিত। ছবি : সংগৃহীত

প্রয়াত হলেন ভারতের দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শীলা দীক্ষিত। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

আজ শনিবার ভারতের সময় ৩টা ৫৫ মিনিট নাগাদ দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় শীলা দীক্ষিতের। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক অশোক শেঠ জানিয়েছেন, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শীলা দীক্ষিতের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তারপর তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। ৩টা ৫৫ মিনিট নাগাদ মারা যান তিনি।

শীলা দীক্ষিতের মৃত্যুতে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস শোক জানিয়ে টুইট করেছে, আমরা শীলা দীক্ষিতের প্রয়াণে মর্মাহত।

শীলা দীক্ষিতের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় লেখেন, দিল্লির উন্নয়নে অসাধারণ কাজ করেছিলেন তিনি।

দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট বার্তায় বলেন, শীলা দীক্ষিতের মৃত্যু দিল্লির পক্ষে বড় ক্ষতি। তাঁর অবদান দিল্লি ভুলবে না।

ভারতের রাজধানী দিল্লির সবচেয়ে বেশি সময়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শীলা দীক্ষিত। ১৯৯৮, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে পরপর তিনবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন শীলা দীক্ষিত। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন শীলা দীক্ষিত। ১৫ বছর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে দিল্লির দীর্ঘকালীন মুখ্যমত্রী থাকার রেকর্ড এখন পর্যন্ত তাঁর। ২০১৩ সালে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির কাছে হেরে যাওয়ার পর শীলার আসন চলে যায় আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দখলে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দিল্লি কংগ্রেসের সভানেত্রী হয়েছিলেন শীলা দীক্ষিত। এবারের লোকসভা নির্বাচনে শীলার নেতৃত্বেই দিল্লিতে লড়াই করে কংগ্রেস। শীলা দীক্ষিত ২০০৪ সালে কেরলের রাজ্যপাল হলেও মাত্র ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি।

শীলা দীক্ষিতের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৩১ মার্চ পাঞ্জাবের কাপুরথালায় খত্রি পরিবারে। দিল্লির কনভেন্ট অব জিজাস অ্যান্ড মেরি স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরান্ডা হাউস থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাস করেন তিনি। ভারতের প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সাবেক মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল উমাশংকর দীক্ষিতের ছেলে বিনোদ দীক্ষিতকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর উৎসাহেই রাজনীতিতে পা রাখেন শীলা।

রাজনীতিতে পা রাখার পর ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে কনৈজ থেকে সাংসদ হন শীলা দীক্ষিত। ১৯৮৬ ও ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রথমে সাংসদ বিষয়ক এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। শীলা দীক্ষিতের মুখ্যমন্ত্রিত্বের আমলেই দিল্লিতে রাস্তার সম্প্রসারণ, উড়ালপুলের মতো একাধিক উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়। ২০১০ সালে কমনওয়েলথ গেমসের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন শীলা দীক্ষিত।

Advertisement