Beta

‘আমাজন রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব’

২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০৭ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১২

অনলাইন ডেস্ক

দ্রুতগতির দাবানলে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত আমাজন জঙ্গল। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই ১০ হাজারটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৪০ হাজারটি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

এই দাবানলের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরো বিশ্ব। সেই সঙ্গে উদ্বিগ্ন আমাজন জঙ্গলে বসবাসকারী খুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণও। আর তাইতো নিজেদের জন্মভূমিকে বাঁচাতে নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে সেখানকার আদিবাসী মুরা জনগোষ্ঠীর লোকজন।

মুরা জনগোষ্ঠীর নেতা রাইমুন্ডু বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি ও আমাদের গাছ নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রক্ষা করবো। এই আমাজন জঙ্গলে প্রায় ১৫,০০০ মুরা জনগোষ্ঠীর লোকের বসবাস। মুরা ছাড়াও এখানে আরো ৪০০ প্রকার খুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন আছে। তাঁরা সবাই মিলে তাঁদের আবাসভূমি রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।’

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎস বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট আমাজন। আমাজন জঙ্গল বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে।

আর সেই বনাঞ্চল এভাবে পুড়ে ছাই হতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন পরিবেশবাদীরা। আমাজনের এই দুর্দশার জন্য ব্রাজিল সরকারকে দুষছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরো বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনকি অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কিন্তু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট উল্টো বলছেন, তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কারণে এনজিওগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে এ আগুন দিচ্ছে। তবে এ কথার পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্রাজিল নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা। প্যারিসে জি-সেভেন সম্মেলনে আমাজনের দাবানল প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্রাজিলে চলমান দাবানল প্রচণ্ডের উদ্বেগের বিষয়। বনাঞ্চল আমাদের ফুসফুস ও বাঁচিয়ে রাখার জীবনীশক্তি।’

Advertisement