Beta

উচ্চ তাপমাত্রায়ও ফলবে শিম

২৬ মার্চ ২০১৫, ১৭:৫৭ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৫, ১৮:০৬

তাসলিমা হোসেন শিখা
ছবি : সংগৃহীত

সবজিপ্রিয়দের অনেকেরই শিম খুবই প্রিয়। কিন্তু এই প্রিয় সবজিটির জন্য শীতকালের অপেক্ষায় থাকতে হয়। তবে আশার খবর হলো, খুব শিগগির আমরা গ্রীষ্মকালেও শিম পেতে যাচ্ছি। সম্প্রতি এক কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাপ-সহনীয় শিম উৎপাদনে গবেষণায় সাফলতা পেয়েছে। গবেষকরা ৩০টি জাতের শিম চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় উৎপাদন হতে পারে। এ ধরনের শিমের উৎপাদন শুরু হলে কোটি কোটি মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিমে আছে উচ্চমাত্রার আমিষ ক্যাল-৯৮, এর উপাদান লোহা ও দস্তা।

বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি কৃষকরা নতুন জাতের শিম উৎপাদন না করে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ শিম উৎপাদন কমে যাবে। কিন্তু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উষ্ণমণ্ডলীয় কৃষিকেন্দ্রের (সিআইএটি) বিজ্ঞানীরা সাফল্য পেয়েছেন।
কলম্বিয়াভিত্তিক সিআইএটির নীতিনির্ধারক ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি জারভিস বলেন, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চলের কৃষকরা উচ্চ তাপ-সহনীয় শিম উৎপাদন করতে পারবে। এসব অঞ্চলের আবহাওয়া খুব বেশি গরম।

সিআইএটির জ্যেষ্ঠ শিম গবেষক স্টিভ বিবি বিবিসিকে বলেন, সাধারণত যেসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, সেসব জায়গায় শিম উৎপাদন হয় না। কারণ রাতে শিমের পরাগায়ন হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় এটা খুবই সংবেদনশীল।

গবেষকরা এক হাজার প্রজাতির শিমের মধ্যে ৩০টি প্রজাতির শিম চিহ্নিত করেছেন যেগুলো তাপ-সহনীয় অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় উৎপাদন হয়।

স্বাভাবিকের চেয়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রায় কৃষিবিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবন করা শিমগুলোর পরাগায়ন হতে পারে। সাধারণত ঠান্ডা অবহাওয়ায় শিম উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ুর যে অবস্থা এবং ভবিষ্যতে যে পরিস্থিতি দাঁড়াবে, তাতে উচ্চ তাপ-সহিষ্ণু সবজি উদ্ভাবন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ড. বিবি আরো বলেন, তাঁর দল রাতের ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে এমন বৈশিষ্ট্যের শিম উৎপাদনের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘১২ থেকে ১৫ বছর আগে সাধারণ ও টেপারি (আমেরিকা অঞ্চলের বিশেষ জাতের শিম) জাতের শিমের মধ্যে সঙ্করায়ন ঘটিয়ে পাওয়া কয়েকটি জাতও আমরা পরীক্ষার জন্য রাখি।’

গবেষকরা বলেন, সব জাতের শিমের পরাগরেণু পরীক্ষার করা হয়, যেগুলো ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রায় কার্যকর থাকে।

Advertisement